ম্যাকবুক নিও ও ডেল এক্সপিএস ১৩-এর মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন ল্যাপটপকে টক্কর দিতে কেবল ৭০০ ডলারে বাজারে আসছে লেনোভোর নতুন ও সাশ্রয়ী ল্যাপটপ। ‘রঙের বৈচিত্র্য, চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটি ও দারুণ কাস্টমাইজেশন’ সুবিধার কারণে ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে এরইমধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
লেনোভোর ‘আইডিয়াপ্যাড’ নামের ল্যাপটপ সিরিজটি প্রযুক্তি বাজারে প্রায়শই তাদের জনপ্রিয় ‘ইয়োগা’, ‘থিংকবুক’ ও ‘থিংকপ্যাড’-এর ভিড়ে কিছুটা ঢাকা পড়ে যায়। এ চিত্র বদলাতে আসছে লেনোভোর নতুন বাজেটবান্ধব ল্যাপটপ ‘আইডিয়াপ্যাড ভাইব’।
ম্যাকবুক নিও ও ডেল এক্সপিএস ১৩-এর মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন ল্যাপটপের শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে এ ল্যাপটপ। ৭০০ ডলারের আসন্ন ল্যাপটপটি সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করেছে লেনোভো। জেন-জি প্রজন্মের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে এর মেটাল বডি বা শ্যাসিতে দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল রঙের বৈচিত্র্য। রঙের তালিকায় রয়েছে ‘ড্রিমি ভায়োলেট’, ‘স্পাইসি গোল্ড’, ‘জেন গ্রিন’, ‘চিল ব্লু’, ‘রেডিয়েন্ট কোরাল’, ‘মুডি ব্লু’ ও ‘লোকি গ্রে’র মতো নান্দনিক নাম। ম্যাকবুক নিও’র তুলনায় ল্যাপটপটি বেশি কাস্টমাইজেশন সুবিধা দিচ্ছে।
ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজন অনুসারে ‘কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন এক্স’ বা ‘এএমডি রাইজেন এআই ৪০০’ সিরিজের প্রসেসরের মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। এ ছাড়া, মডেল কনফিগারেশনের ওপর ভিত্তি করে এতে ২৪ জিবি বা ৩২ জিবি পর্যন্ত র্যাম ও ১ টিবি পর্যন্ত স্টোরেজ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
এর ভিন্নতা কেবল প্রসেসর বা রঙেই সীমিত নয়, আইডিয়াপ্যাড ভাইব পাওয়া যাবে ১৪ ও ১৫ ইঞ্চি দুই ভিন্ন সাইজে। পাশাপাশি এএমডিচালিত বিভিন্ন মডেলে ব্যবহারকারীদের জন্য ৫০ ডব্লিউএইচআর বা ৬৫ ডব্লিউএইচআর-এর দুটি ব্যাটারি অপশন রয়েছে।
ডিসপ্লে ও মাল্টিমিডিয়া ফিচারের ক্ষেত্রে এতে রয়েছে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত রিফ্রেশ রেটের ওএলইডি ডিসপ্লে, দুটি দুই-ওয়াটের স্পিকার এবং উইন্ডোজ হ্যালো ও ফিজিক্যাল শাটারওয়ালা ৫ মেগাপিক্সেলের একটি ওয়েবক্যাম। কানেক্টিভিটির দিক থেকেও ডিভাইসটি বেশ ভালো।
এতে দুটি টাইপ-এ ও দুটি টাইপ-সি, মোট চারটি ইউএসবি পোর্ট, ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক, মাইক্রোএসডি কার্ড রিডার ও একটি ফুল-সাইজ এইচডিএমআই কানেক্টর যোগ করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের স্লিম ল্যাপটপগুলোতে সচরাচর একসঙ্গে মেলে না। বর্তমান সময়ে লেনোভোর ঠিক এ ধরনের ল্যাপটপই তৈরি করা উচিত, বিশেষ করে গ্লোবাল র্যাম সংকটের কারণে যখন অধিকাংশ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে তখন এ ল্যাপটপ দারুণ সমাধান হতে পারে।
ডিভাইসটির বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত। ১৪ ইঞ্চি মডেলটির পুরুত্ব কেবল ০ দশমিক ৫৯ ইঞ্চি ও ওজন ১ কেজি ২৭০ গ্রাম, আর ১৫ ইঞ্চি মডেলটির ওজন দেড় কেজি। ল্যাপটপের কানেক্টিভিটি ফিচারটি প্রশংসনীয়।
এতে মাইক্রোএসডি কার্ড রিডার থাকায় অতিরিক্ত কোনো অ্যাডাপ্টার ছাড়াই খুব সহজে ক্যামেরা থেকে ছবি বা ভিডিও ট্রান্সফার করা সম্ভব। ল্যাপটপটির দাম ৭০০ ডলার থেকে শুরু হলেও, বাজেট কিছুটা বাড়াতে পারলে র্যাম আপগ্রেডের পরামর্শ দিচ্ছে লেনোভো। কারণ এর বেস মডেলে কেবল ৮ জিবি র্যাম রয়েছে, যা বর্তমানের উইন্ডোজ ল্যাপটপের জন্য আদর্শ বলা যাবে না।
১৬ জিবি বা তার বেশি র্যামওয়ালা কনফিগারেশন বেছে নেওয়া গেলে আগামী কয়েক বছর ল্যাপটপটি আরামেই ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে, যারা সর্বোচ্চ ব্যাটারি ব্যাকআপ বা পাওয়ার এফিশিয়েন্সি চান তারা স্ন্যাপড্রাগন চালিত মডেলটি বেছে নিতে পারেন।
এএমডি ভ্যারিয়েন্টটিও খারাপ নয়। এসব ইউনিট সফটওয়্যার কম্প্যাটিবিলিটি ও পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আরও ব্যালেন্সড অভিজ্ঞতা দেবে। নতুন ল্যাপটপের নাম ও রঙের বৈচিত্র্য দেখে বোঝা যায়, লেভোনো সরাসরি তরুণ প্রজন্মকে টার্গেট করছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ক্রমাগত দামের কারণে যাদের ওপর বেশি চাপ পড়ছে।
‘আইডিয়াপ্যাড ভাইব’-এর এএমডি প্রসেসরওয়ালা বিভিন্ন সংস্করণ এ বছরের অক্টোবরে বাজারে আসবে। এরপরে নভেম্বর মাসে স্ন্যাপড্রাগন মডেল ও পরবর্তীতে ‘অন্য কোনো সময়ে’ ইনটেল সংস্করণ বাজারে আসতে পারে।
ডিসি/আপ্র/০৬/০৯/২০২৬