দিনের শুরুর দিকে একটি ছোবল, মাঝের সেশনে একটি, শেষ দিকে আরও একটি। গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে দলকে উইকেট এনে দিলেন হাসান মাহমুদ। পাশাপাশি অবদান রাখলেন ম্যাট মিল্নস ও কিথ ডাজনও। তিন পেসার তিনটি করে উইকেট নিয়ে জিতিয়ে দিলেন কেন্টকে। বিফলে গেল উস্টারশায়ারের ব্রেট ডি’অলিভেইরার লড়িয়ে সেঞ্চুরি। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডিভিশন টু-এর ম্যাচটিতে উস্টারশায়ারকে ৮৪ রানে হারাল কেন্ট।
ডিভিশন ওয়ানে প্রমোশনের লড়াইয়ে জয়টি খুবই জরুরি ছিল তাদের। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ শেষ করে কাউন্টিতে ফিরে আবার কেন্টের জয়ের নায়ক হাসান। দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেট শিকারি পেসার প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন চার উইকেট। দলের পাঁচ পেসারের বোলিং আক্রমণে সফলতম বোলার তিনিই।
অভিজ্ঞ মিল্নস নিয়েছেন ম্যাচে ছয় উইকেট, দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ডাজন পাঁচটি। জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে উস্টারশায়ারের লক্ষ্য ছিল ৩৮০ রান। তৃতীয় দিন শেষ করে তারা ৩ উইকেটে ৮৪ রানে। হাসান তখনও কোনো উইকেট পাননি।
নতুন দিনে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অ্যাডাম হোস ও ডি’অলিভেইরা। এই জুটিকে ৭৬ রানে থামান হাসান। এ দিন তার প্রথম ওভারেই ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ করে দেন ৩৮ রান করা হোসকে। উস্টার তবু লড়াই চালিয়ে যায়। ডি’অলিভেইরার সঙ্গে জুটিতে দলকে দুইশ পেরিয়ে নিয়ে যান হেনরি কালেন।
এই জুটি যখন দলের মাথাব্যথার কারণ, আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন হাসান। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ডিগবাজি খায় ৪৫ রান করা কিপার-ব্যাটারের অফ স্টাম্প। ৮৬ রানের এই জুটি ভাঙার পরও ম্যাচের লাগাম নিতে পারেনি কেন্ট। এবার ডি’অলিভেইরা ও ম্যাথু ওয়েট গড়ে তোলেন আরেকটি জুটি।
এক পর্যায়ে উস্টারের রান ছিল ৫ উইকেটে ২৬৫। জয়ের জন্য প্রয়োজন তখন আর ১১৫ রান। এবার ৬৪ রানের জুটি ভাঙেন ডাজন। এরপর আর কেন্টকে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ডাজন পরে টানা দুই বলে উইকেট এনে দেন দুটি।
দ্বিতীয় নতুন বলে আক্রমণে এসেই নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বেন অ্যালিসনকে এলবিডব্লিউ করেন হাসান। শেষ ব্যাটার অ্যাডাম ফিঞ্চকে ফিরিয়ে ম্যাচ শেষ করেন মিল্নস। উস্টারশায়ার শেষ ৫ উইকেট হারায় ৩০ রানের মধ্যে।
গত জুনে কাউন্টিতে অভিষেক ম্যাচেই ৯ উইকেট নিয়ে কেন্টকে জেতান হাসান। পরের ম্যাচেও ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রাখেন অবদান। পরে জাতীয় দলের হয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। সেখান থেকে ফিরে কেন্টের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেন টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে।
আবার জাতীয় দলে ফিরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ে ম্যাচ-সেরা হন ৯ উইকেট নিয়ে। এরপর কাউন্টিতে ফিরে আরেক দফায় বড় ভূমিকা রাখলেন কেন্টের জয়ে। এখন কেন্টে তার সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের আরেক পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদও। তবে এই ম্যাচে তাকে রাখা হয়নি একাদশে। কাউন্টিতে প্রতি দলের একাদশে বিদেশি খেলতে পারেন দুজন। হাসানের সঙ্গে কেন্ট ম্যাচে খেলিয়েছে প্রোটিয়া পেসার ডাজনকে।
এই মৌসুমে কেন্টের ম্যাচ বাকি আছে আর তিনটি। ডিভিশন টু থেকে প্রতি মৌসুমে দুটি দল ওঠে ডিভিশন ওয়ানে। ১১ ম্যাচে ১৭০ পয়েন্ট নিয়ে ডিভিশন টু-তে দুই নম্বর স্থান সংহত করেছে কেন্ট। ১৫৫ পয়েন্ট নিয়ে তিনে নর্থ্যাম্পটন। ২১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা ডারহামের প্রমোশন পাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। পরের তিন ম্যাচে কেন্টের প্রতিপক্ষ তলানির দিন দল ডার্বিশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও গ্লস্টারশায়ার।
ডিসি/আপ্র/০৬/০৯/২০২৬