আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবারো মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হুইলচেয়ারে থাকা ভেনেজুয়েলার সাংবাদিক মানু গুতিয়েরেসের জন্য থেমে ধৈর্য নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে অন্যদের মতো তাড়াহুড়া না করে মেসি সাংবাদিকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন। তার এই আচরণ উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়ায়।
ম্যাচে নতুন নতুন রেকর্ড গড়ার বিষয়ে মেসি বলেন, ‘আমি আসলে এগুলোর হিসাব রাখিনি। ম্যাচ খেলতে খেলতেই সব হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় দল এগিয়ে যাচ্ছে এবং লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই জয় আমাদের জন্য অনেক আনন্দের, কারণ আমরা লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি।’
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত নিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘মাঝমাঠে খেলাটা খুব কঠিন ছিল। লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মাঝখানে অনেক ভিড় হয়ে যায়। তাই আমি ডান দিকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাই। সেখান থেকেই আমরা একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হই, যা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।’
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নার কারণও ব্যাখ্যা করেন মেসি। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। জানতাম, ফিরে আসা সহজ হবে না। শেষ বাঁশির পর কান্নাটা ছিল সব চাপ থেকে মুক্তির অনুভূতি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি। আমরা এই প্রতিযোগিতায় আরো এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য ছিলাম।’
মেসির এই বক্তব্যে যেমন আর্জেন্টিনার কঠিন লড়াইয়ের প্রতিফলন ফুটে উঠেছে, তেমনি হুইলচেয়ারে থাকা এক সাংবাদিকের প্রতি তার সম্মান ও সংবেদনশীল আচরণও আবারো বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এসি/আপ্র/০৯/০৭/২০২৬