পেল-গারিঞ্চা থেকে শুরু করে রোমারিও-রোনালদোর দেশ ব্রাজিল মানেই নান্দনিক ফুটবল আর বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ডদের মেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে আরও একবার সেই চেনা ‘মধুর সমস্যায়’ পড়েছেন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাতে একঝাঁক প্রতিভাবান তারকা থাকলেও, চূড়ান্ত স্কোয়াডে কাকে রেখে কাকে বাদ দেবেন—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আনচেলত্তির কৌশল ও নতুন সমীকরণ
গত বছরের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায় চুকিয়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন আনচেলত্তি। তার অধীনে দল হেক্সা জয়ের স্বপ্ন বুনছে। কোচ হিসেবে তিনি মূলত ৪-৪-২ ফর্মেশনকে প্রাধান্য দিলেও প্রতিপক্ষ ভেদে ৪-৩-৩ বা ৪-২-৩-১ ছকেও দলকে খেলাচ্ছেন। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় ভিনিসিউস জুনিয়র, এস্তেভোঁ এবং মাথেউস কুইয়া বর্তমানে নিয়মিত মুখ। তবে চতুর্থ ফরোয়ার্ড হিসেবে কে জায়গা পাবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
আক্রমণভাগের মূল অস্ত্র যারা
কোচের ঘোষিত সবশেষ চারটি স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তরুণ এস্তেভোঁ এখন সবচেয়ে ফর্মে আছেন। ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার চেলসির হয়ে যেমন উজ্জ্বল, জাতীয় দলেও তেমনি ধারাবাহিক। অভিজ্ঞতার বিচারে রিশার্লিসন দলে থাকলেও তাকে কঠিন লড়াই দিতে হচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাথেউস কুইয়াকে, যিনি বর্তমানে দলের ‘লিঙ্ক-আপ’ প্লে-তে দারুণ কার্যকর। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা হওয়ার দৌড়ে থাকা ভিনিসিউস জুনিয়র থাকছেন আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তাকে সঙ্গ দিতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ রদ্রিগো এবং আর্সেনালের গতিশীল ফরোয়ার্ড গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাফিনিয়া চোট কাটিয়ে ফিরলে কোচের পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে।
তোস্তাও-এর পর্যবেক্ষণ ও ‘নাম্বার নাইন’ বিতর্ক
১৯৭০ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি তোস্তাও মনে করেন, সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে এখন সবচেয়ে যোগ্য নাম জোয়াও পেদ্রো। চেলসির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দারুণ খেলা পেদ্রোকে আধুনিক ফুটবলের একজন ‘অলরাউন্ড’ স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তোস্তাও-এর মতে, ভিনিসিউসকে উইংয়ে না রেখে মাঝে খেলিয়ে রাফিনিয়া ও রদ্রিগোকে দুই পাশে রাখলে আক্রমণের ধার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
নেইমার ও এন্দ্রিক: অভিজ্ঞ বনাম তারুণ্যের বাজি
ব্রাজিল ফুটবলের গত এক দশকের পোস্টার বয় নেইমার চোট কাটিয়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন। তবে আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিট না হলে বড় নাম দেখে কাউকে দলে নেবেন না। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদে সুযোগ না পেয়ে লোনে লিঁও-তে যাওয়া তরুণ এন্দ্রিক ফরাসি লিগে হ্যাটট্রিক করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে এই দুইজনের অন্তর্ভুক্তি হবে আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় জুয়া।
আনচেলত্তির হাতে অস্ত্রের অভাব নেই, অভাব শুধু সঠিক সমন্বয়ের। ফিটনেস, কৌশলগত বৈচিত্র্য এবং সাম্প্রতিক ফর্ম—এই তিন মাপকাঠিতে যারা টিকবেন, তারাই উত্তর আমেরিকায় ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের সারথি হবেন।
ডিসি/আপ্র/ ৩/৩/২০২৬