চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের ৯ থেকে ১০টি গভীর কোপের আঘাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত জাকারিয়া হাসান জিলহান সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি। গত শনিবার (১৬ মে) রাত সোয়া আটটার দিকে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুরোনো ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায়, নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
স্বজনেরা জানান, হামলায় জিলহানের শরীরের বিভিন্ন স্থানের মাংস আলাদা হয়ে যায় এবং ক্ষত এত গভীর ছিল যে চিকিৎসকদের সেলাই দিতেও বেগ পেতে হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রথমে তাঁকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে রাত তিনটার দিকে তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, আহত জিলহানের হাতে, কোমরে ও পায়ে ৯ থেকে ১০টির বেশি কোপের আঘাত রয়েছে। ক্ষত এতটাই গুরুতর ছিল যে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের হাতে ক্যানুলা লাগাতেও কষ্ট হচ্ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে দ্রুত তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
রোববার সকালে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকারিয়া হাসান জিলহান মুঠোফোনে হামলার বর্ণনা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ সাইমন তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সাইমনের বড় ভাই কাজী মোহাম্মদ বাবলুও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
জিলহানের ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সাইমন তাঁকে মুঠোফোনে ডেকে নেন। পরে পুরোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় দেখা হলে হঠাৎ পেছন থেকে বড় রামদা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু হয়। এতে তাঁর দুই হাত ও পায়ে একের পর এক আঘাত লাগে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, কাজী সাইমন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। জিলহান কিশোর গ্যাংয়ের নেতা ছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিবেশী সাইমন হামলা চালিয়েছেন। তবে এখনো ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে, তবে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৭/৫/২০২৬