মাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্ব মা দিবসেই নিজের কিডনি ছেলেকে দান করেছেন শরীয়তপুরের এক স্কুলশিক্ষিকা। অস্ত্রোপচারের পর মা ও ছেলে দুজনই বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ আছেন বলে জানা গেছে।
জাজিরা উপজেলার খলিফাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা সুলতানা (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন। স্বামী বি এম শাহজাহানের মৃত্যুর পর ছেলেকে কেন্দ্র করেই তাঁর জীবন আবর্তিত হচ্ছিল। প্রায় নয় মাস আগে তাঁর ছেলে নাছিম জাহান (২৮) গুরুতর কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত হলে শুরু হয় সংগ্রাম।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, নাছিম জাহানের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেছে। তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছিল—সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার। ছেলের এই অবস্থা দেখে শেষ পর্যন্ত নিজের একটি কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেন নাছিমা সুলতানা।
গত রোববার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবসের রাতে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসক কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মা ও ছেলের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন নাছিমা সুলতানা। পরে তিনি প্রধান শিক্ষক হন। স্বামী ২০১৯ সালে ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর ছেলে-মেয়েকে নিয়েই চলছিল তাঁর সংসার। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে ছেলেকেই ঘিরে ছিল তাঁর সব আশা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কুয়েতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাছিম জাহান। কিন্তু যাত্রার মাত্র সাত দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে ধরা পড়ে তাঁর কিডনি বিকলের বিষয়টি।
নাছিমার মেয়ে সিফাত জাহান বলেন, মা নিজেই স্বেচ্ছায় কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সন্তানের জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেননি।
বিদ্যালয়ের সহকর্মীরা জানান, সন্তানকে বাঁচাতে নিজের অঙ্গ দান করে নাছিমা সুলতানা বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা মা ও ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন।
সানা/আপ্র/১২/৫/২০২৬