গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

মেনু

মেসেজে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যাবে? কী বলছে ইসলাম

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৮ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫০ এএম ২০২৬
মেসেজে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যাবে? কী বলছে ইসলাম
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজই অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছে। তবে ডিজিটাল এই যুগে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ বা ‘ইজাব-কবুল’ করলে বিয়ে হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।

শরিয়াহ বিশারদদের মতে, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো লিখিত মাধ্যমে একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অপরপক্ষ তিনবার ‘কবুল’ লিখে তা গ্রহণ করলেও বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পাত্র ও পাত্রী অথবা পাত্রীর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। যেহেতু ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে এই সরাসরি উপস্থিতির শর্তটি পূরণ হয় না, তাই এভাবে ইজাব-কবুল করলেও বিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ হবে না।

বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা একটি অপরিহার্য শর্ত। শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করলেও সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

এ বিষয়ে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।’

তবে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তারাই সাক্ষীর মর্যাদা পাবেন। বিশেষ করে মসজিদে যখন বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়, তখন উপস্থিত সবাই বিয়ের সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।

অর্থাৎ, ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষী এবং একই মজলিসে অবস্থানের বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।

এসি/আপ্র/২৬/০৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে যে ৬ শর্ত দিল সৌদি আরব
২৬ আগস্ট ২০২৬

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে যে ৬ শর্ত দিল সৌদি আরব

ওমরাহ পরিচালনায় এজেন্সিগুলোর নিবন্ধনের (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়ায় ছয়টি শর্ত আরোপ করেছে ঢাকাস্থ সৌদি...

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা
২৬ আগস্ট ২০২৬

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী, দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি), যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে...

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের ৬ উপায়
২৫ আগস্ট ২০২৬

ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপনের ৬ উপায়

রাসুলুল্লাহ হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে মুসলমানদের মধ্যে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রচলন রয়...

দুঃসময়ে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ৩ উপায়
২৪ আগস্ট ২০২৬

দুঃসময়ে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ৩ উপায়

বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট মানুষের জীবনেরই অংশ। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ, আল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে রোডম্যাপ চান আইনমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, সে লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মন্ত্রীর চাওয়ার সাথে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 ঘন্টা আগে