সাতক্ষীরায় মারাত্মক রোগাক্রান্ত ও পোকাধরা গরু গোপনে জবাই করে সুস্থ গরুর মাংস হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান, একটি মোটরসাইকেল এবং একটি অসুস্থ গরু জব্দ করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা বৌবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরার মাছখোলা গ্রামের আবুল বাশার কারিগর (৩০), তৈয়েবুর রহমান (১৯) ও শাহিন ইসলাম (২০), খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহাপুর গ্রামের ইব্রাহীম শেখ (২৫) এবং একই উপজেলার চুকনগরের রাব্বি হোসেন আকাশ (২৫)। মামলার এজাহারে এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি হিসেবে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলামের (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর আনুমানিক চারটার দিকে একটি লাল-কালো রঙের পিকআপে করে একটি অত্যন্ত রোগাক্রান্ত ফ্রিজিয়ান গরু মাগুরা বৌবাজার এলাকায় নিয়ে আসে চক্রটি। পিকআপ থেকে গরুটি রাস্তার পাশে নামানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। গরুটির মুখ দিয়ে ক্রমাগত ফেনা ও লালা ঝরছিল এবং সেটি প্রায় নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।
বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা আলহাজ্জ এম সোহেল আহমেদ মানিকসহ অন্যদের নজরে এলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। গরুটির আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে তাঁরা সাতক্ষীরা থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি পিকআপ ও একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পিকআপটির নিবন্ধন নম্বর খুলনা-ন-১১-১৭৪১ এবং মোটরসাইকেলটির নিবন্ধন নম্বর সাতক্ষীরা-ল-১১-৭৯৪০।
পরে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেখ সালাহউদ্দীন সাতক্ষীরা থানায় গিয়ে গরুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তিনি গরুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে মারাত্মক অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু সংগ্রহ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে এসব গরু গোপনে জবাই করে সুস্থ গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাৎ করা হতো বলেও জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আলহাজ্জ এম সোহেল আহমেদ মানিক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। সাতক্ষীরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৭/৮/২০২৬