লন্ডনে চিকিৎসাধীন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি জীবিত ও ভালো আছেন বলে জানিয়েছে তাঁর সংগঠন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। যাচাই-বাছাই ছাড়াই একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুর মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ বলেন, লন্ডনে ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিবারের সঙ্গে সংগঠনের কথা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তিনি ভালো আছেন। অতি উৎসাহী হয়ে অনেকে যাচাই না করেই এ ধরনের খবর ছড়িয়ে দেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিটন এরশাদ বলেন, ‘তথ্য যাচাই ছাড়াই মৃত্যুর খবর ছড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু চরম দায়িত্বহীনতা নয়, বরং একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকা লাখো মানুষের অনুভূতির প্রতি নির্মম আঘাত।’
তিনি আরো বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন; দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়।
মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিসচার পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে চিকিৎসা
মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে মেয়ের বাসায় থেকে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সেখানে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর দুই ধাপে তাঁর কেমোথেরাপি চলে।
প্রায় ১৫ মাসের বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরেছিলেন এই অভিনেতা। এক সপ্তাহের বেশি সময় দেশে থাকার পর গত ১২ আগস্ট চিকিৎসার জন্য আবার যুক্তরাজ্যে যান তিনি। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
অভিনয় থেকে সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলন
প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ইলিয়াস কাঞ্চন কয়েকশ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের শুরু। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান তিনি। তবে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর এক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারান ইলিয়াস কাঞ্চন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তিনি। পরে গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন, যা দীর্ঘদিন ধরে দেশে সড়ক নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করে আসছে।
জীবিত থাকা অবস্থায় একজন জাতীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় তাঁর পরিবার, শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। নিসচা বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানোর আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তা যাচাই করা জরুরি।
সানা/আপ্র/২৭/৮/২০২৬