গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মেনু

মাহে রমজান

২৫তম রোজার পাঁচ আমল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০২ এএম ২০২৬
২৫তম রোজার পাঁচ আমল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আজ ২৫ রমজান। শেষ দশকের মাঝামাঝি সময়। রমজান মাস আল্লাহ তা’আলার এক বিশেষ নিয়ামত। এটি সওয়াব অর্জন করার মৌসুম। কারণ এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস-রমজান। এ মাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করার মাধ্যমে আমরা জান্নাতে যেতে পারি; জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে পারি। আজ ৫টি আমল সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে।

ফিতরাহ দেয়া: এ মাসে সিয়ামের ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণার্থে ফিতরাহ দেয়া আবশ্যক। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে ফিতরাহ আদায় করার আদেশ দিলেন। [সহীহ আল-বুখারী :১৫০৩]

অপরকে খাদ্য খাওয়ানো: রমজান মাসে লোকদের খাওয়ানো, বিশেষ করে সিয়াম পালনকারী গরীব, অসহায়কে খাদ্য খাওয়ানো বিরাট সওয়াবের কাজ। কুরআনে এসেছে- তারা খাদ্যের প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও মিসকিন, ইয়াতিম ও বন্দীকে খাদ্য দান করে। [সূরা আদ-দাহর: ৮]

এ বিষয়ে হাদীসে বলা হয়েছে- ‘আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, একজন লোক এসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইসলামে উত্তম কাজ কোনটি? তিনি বললেন, অন্যদেরকে খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত ও অপরিচিত সকলকে সালাম দেয়া।’ [সহীহ আল-বুখারী : ১২]

অপর বর্ণনায় বর্ণিত আছে- ‘যে কোনো মুমিন কোনো ক্ষুধার্ত মুমিনকে খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন ‘ [বাইহাকী, শু’আবুল ইমান : ৩০৯৮, হাসান]

আত্মীয়তার সম্পর্ক উন্নীত করা: আত্মীয়তার সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর তা রক্ষা করাও একটি ইবাদাত। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা বলেন- ‘আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে চাও। আরো তাকওয়া অবলম্বন করো রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।’ [সূরা আন-নিসা: ১]

আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘সালাম বিমিয়ের মাধ্যমে হলেও আত্নীয়তার সম্পর্ক তরতাজা রাখো।’ [সহীহ কুনুযুস সুন্নাহ আন-নবওয়িয়্যাহ : ১৩]

কুরআন মুখস্থ বা হিফয করা: কুরআন হিফয করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা নিজেই কুরআন হিফযের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি এ দায়িত্ব মূলত বান্দাদেরকে কুরআন হিফয করানোর মাধ্যমেই সম্পাদন করেন। কুরআনে এসেছে-‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি, আর আমিই তার হিফাযতকারী।’ [সূরা আল-হিজর: ৯]

যে যত বেশি অংশ হিফয করতে পারবে তা তার জন্য ততই উত্তম। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল ‘আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-‘কুরআনের ধারক-বাহককে বলা হবে কুরআন পড়ে যাও, আর উপরে উঠতে থাক, ধীর-স্থিরভাবে তারতীলের সাথে পাঠ করো, যেমন দুনিয়াতে তারতীলের সাথে পাঠ করতে। কেননা জান্নাতে তোমার অবস্থান সেখানেই হবে, যেখানে তোমার আয়াত পড়া শেষ হবে।’ [সুনান আত-তিরমিযী : ২৯১৪]

আল্লাহর যিকর করা: এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-‘আল্লাহ তা’আলা চারটি বাক্যকে বিশেষভাবে নির্বাচিত করেছেন, তা হলো যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য দশটি সওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য বিশটি সওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পড়বে, তার জন্য বিশটি সাওয়াব লেখা হয়, আর বিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে পড়বে, তার জন্য ত্রিশটি সওয়াব লেখা হয়, আর ত্রিশটি গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হয়।’ [মুসনাদ আহমাদ: ১১৩৪৫]

সানা/এসি/আপ্র/১৫/৩/২০২৬


 

সংশ্লিষ্ট খবর

২৪তম রোজার দোয়া ও ফজিলত
১৪ মার্চ ২০২৬

২৪তম রোজার দোয়া ও ফজিলত

মাহে রমজান

জানানো হলো ২২তম রোজার ফজিলত
১২ মার্চ ২০২৬

জানানো হলো ২২তম রোজার ফজিলত

মাহে রমজান

ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
১১ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ মার্চ বা ২১ মার্চ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে...

শুরু হলো রমজানের শেষ দশক নাজাত
১১ মার্চ ২০২৬

শুরু হলো রমজানের শেষ দশক নাজাত

মাহে রমজান

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই