গরু নিয়ে আরো একবার মুসলিমদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সম্প্রতি সরকারি এক অনুষ্ঠানে বিজেপির এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে ‘গরু মা হিসেবে’ পূজনীয়। ‘গোমাতার’ প্রতি যাতে কোনো অসম্মান করা না হয়, সে বিষয়ে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের উচিত তাদের অনুসারীদের সতর্ক করা।
মঙ্গলবার (২ জুন) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেকান হেরাল্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন দেশটির বেশ কিছু মুসলিম নেতা। জমিয়ত উলেমা-এ-হিন্দের সভাপতি মৌলানা আরশাদ মাদানি ও কিছু মুসলিম সংগঠন গরুকে ‘ভারতের জাতীয় পশু’ ঘোষণার এ দাবি তুলেছিলেন।
গত সোমবার এক সরকারি অনুষ্ঠানে সেই প্রসঙ্গ টেনেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘মায়ের সম্মান রক্ষার কথা সন্তানকে আলাদা করে শিখিয়ে দিতে হয় না। এ দেশের মানুষ নিজের মা এবং গরুকে সমান শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। যারা গরুকে পশু বলেন, তারা আদতে গো-হত্যাকেই সমর্থন করেন।’
তিনি বলেন, গরু আমাদের মা। সে নিছক কোনো পশু নয়। গোমাতাকে ‘পশু’ আখ্যা দিলে বুঝতে হবে আপনাদের মানসিকতাই পাশবিক। গোমাতা আমাদের রাষ্ট্রমাতা। এর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন নেই।
এসময় আদিত্যনাথ বলেন, ‘আজকাল অনেকে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি তুলছেন। কিন্তু আমরা বলি, গরু আমাদের মাতা। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জন্মান্তরের।’
অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবার, প্রাক্তন সৈনিক এবং ইজারাদারদের মধ্যে জমির মালিকানার সনদ বিতরণ করেন।
পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশভাগের সময় ধর্মীয় চরমপন্থার কারণে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এর ফলে নিরীহ হিন্দু ও শিখদের গণহত্যা সংঘটিত হয়। অবশেষে, কয়েক দশক পর সেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর চতুর্থ প্রজন্ম জমির মালিকানার অধিকার পাচ্ছে।
এছাড়া, উত্তর প্রদেশ সরকার এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সনদপত্রগুলো ১ হাজার ৬৪৫টি পরিবারের প্রায় ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার সদস্যকে উপকৃত করবে। বাকি বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্যও এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এসি/আপ্র/০৩/০৬/২০২৬