বাবাকে বিকেলে দাফন করার পর শোক পালনেরও সুযোগ হয়নি। রাতেই বই হাতে ছুটতে হয়েছে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালনে। আর পরদিন সকালে অংশ নিতে হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের এই হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মপরিবেশ, ছুটি ও পারিশ্রমিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ইকনের মতো অধিকাংশ নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মস্থল ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানে হলেও তাদের বেতন দেয় সংশ্লিষ্ট এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে এজেন্সিগুলো পারিশ্রমিকের একটি অংশ কেটে রাখে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের বাইরে দীর্ঘ সময় টানা কাজ করতে হয়। খণ্ডকালীন কর্মীদের বেশিরভাগকেই রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
ইকনের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৬)। মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে হলেও বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে চাকরির সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে বসবাস শুরু করে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় বসবাস করছে পরিবারটি।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ইকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানাজায় অংশ নেন। তিনি ইকনকে সেদিন ডিউটিতে না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন।
কিন্তু সংসারের কঠিন বাস্তবতার কাছে হার মানতে হয়েছে ইকনকে। বাবাকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরই বই সঙ্গে নিয়ে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করতে যান তিনি। পরদিন সকালে অংশ নেন এইচএসসি পরীক্ষায়। তার এই সংগ্রামের গল্প সমাজে দায়িত্ববোধ, জীবনের কঠিন বাস্তবতা এবং নিম্ন আয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মপরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এসি/আপ্র/২২/০৭/২০২৬