গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

কর্ণফুলী ইপিজেডে দুই দশকে রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৫ এএম ২০২৬
কর্ণফুলী ইপিজেডে দুই দশকে রপ্তানি ১৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দুই দশকের পথচলা পূর্ণ করেছে কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (কর্ণফুলী ইপিজেড)। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইপিজেডটির উদ্বোধন করেন। ২০ বছরের এই পথচলায় কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

২০০৬ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে প্রথম রপ্তানি শুরু হয় ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে। পাওলো ফুটওয়্যার (বিডি) লিমিটেড প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই ইপিজেড থেকে পণ্য রপ্তানি করে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালের আগস্ট শেষে সেই রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কর্ণফুলী ইপিজেডের রপ্তানি কেবল তৈরি পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই। এখান থেকে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী, বাইসাইকেল, চামড়াজাত পণ্য, আসবাব, ব্যাগ, অন্তর্বাস, ফ্যাশন ও নিরাপত্তাসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রখ্যাত ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এসব পণ্য সরবরাহ করা হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কর্ণফুলী ইপিজেডের ‘দুই দশকের রূপান্তর ও বিকাশ’ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানানো হয়।

শিল্পাঞ্চলে রূপান্তর

বন্ধ হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের জায়গায় গড়ে ওঠে কর্ণফুলী ইপিজেড। মতবিনিময়কালে তুলে ধরা হয়, চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী নদীর তীরে একসময় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেড।

কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থানের কারণে ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে মিলটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা, প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনাগত নানা সমস্যায় প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে লোকসানে পড়ে। ১৯৯৮ সালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে লে-অফ ঘোষণা করা হয়।

এরপর ১৯৯৯ সালের ৭ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং একসময় হাজারো শ্রমিকের পদচারণায় মুখর থাকা এলাকাটি নীরব হয়ে যায়।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক বলেন, একটি সমাপ্তিই আরেকটি শুরুর পথ তৈরি করে। অচলাবস্থা দূর করতে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী ও বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চিটাগাং স্টিল মিলস লিমিটেডকে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্টিল মিলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

২০০৪ সালে দুই ধাপে স্টিল মিলের জমি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রথম ধাপে ২২ ফেব্রুয়ারি ৭৪ একর এবং দ্বিতীয় ধাপে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর ১৪৮ দশমিক ৪২ একর জমি হস্তান্তর করা হয়। অর্থাৎ বিলুপ্ত চট্টগ্রাম স্টিল মিলসের মোট ২২২ দশমিক ৪২ একর জমিই বেপজার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে জমি উন্নয়ন করে সেখানে গড়ে তোলা হয় আধুনিক ও পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা। আধুনিক অবকাঠামো, কারখানা ও প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত করে শিল্পায়নের নতুন যাত্রা শুরু হয়। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী ইপিজেড উদ্বোধন করেন।

বিনিয়োগ বেড়েছে ৭৮৭ মিলিয়ন ডলারে

মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশের বিনিয়োগকারী কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ করেছেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, তাইওয়ান, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়া।

২০০৬-০৭ অর্থবছরে মাত্র ১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ দিয়ে যাত্রা শুরু করা কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইপিজেডটিতে ২৫৮টি শিল্পপ্লট রয়েছে। প্রতিটি প্লটের আয়তন ২ হাজার বর্গমিটার। এ ছাড়া পাঁচটি মানসম্মত কারখানা ভবনে মোট ৪৯ হাজার ৭৯৮ বর্গমিটার আয়তনের ফ্লোর স্পেস রয়েছে। এসব শিল্পপ্লট ও কারখানা ভবনের সবই ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে কর্ণফুলী ইপিজেডে ৪০টি প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন, তিনটি যৌথ মালিকানাধীন এবং আটটি দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া আরও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

কর্ণফুলী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক জানান, বর্তমানে ইপিজেডটিতে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় এক লাখ মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এসি/আপ্র/১৩/০৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনে ফিরছে সিইউএফএল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, উৎপাদনে ফিরছে সিইউএফএল

দীর্ঘদিন গ্যাসসংকটে বন্ধ থাকার পর প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরতে প্রস্তুত চট্ট...

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে...

আদানির বিকল ইউনিট সচল, বাড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদানির বিকল ইউনিট সচল, বাড়ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিত...

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনতে চায় বাংলাদেশ
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনতে চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামী পাঁচ বছরে আরো ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে চায় বাংলাদেশ। আর এ লক্ষ্যে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই