টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাজধানী তেহরানসহ দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তায় ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনা কেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সামরিক রসদ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
আলজাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বুশেহর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক শহরের আশপাশেও একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান ও ওমিদিয়েহ শহরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছেন প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর। অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাবরিজ শহরের উপকণ্ঠের একটি সামরিক স্থাপনাতেও হামলার কথা জানিয়েছে ফার্স। স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪০ মিনিটে পরিচালিত ওই হামলায় শহরের বাইরের একটি সামরিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হলেও শহরের ভেতরে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে হামলা চালিয়ে এলেও এবার তেহরান ও তাবরিজে হামলা সংঘাতের বিস্তৃতি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পুনরায় শুরুর পর ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও কাতারসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং পেন্টাগনের আরও ৯০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। এ নিয়ে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ প্রশ্ন তোলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করার পরও অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন কেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ খুব শিগগিরই জোরালো হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর জবাবে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে।
সূত্র: আলজাজিরা
এসি/আপ্র/২২/৭/২০২৬