দেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, রোগীদের ভয় দেখানো নয়, বরং সাহস দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় ‘প্যানিক’ তৈরি না করার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধির ওপর আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের ভয় দেখানো উচিত নয়, এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। রুমিন ফারহানা সংসদে হামে আক্রান্ত রোগীদের একটি ডাটাবেইজ উপস্থাপন করলে সেটির প্রসঙ্গ টেনেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি তো জানতাম আমি ৩০০ জন সংসদ সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে তো কথা বলছি না। সংসদে যদি স্বার্থের প্রশ্নে বলতে না পারিৃ।”
তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনে ৯৮ জন শিশুর সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনকভাবে চার জন এবং নিশ্চিতভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী একটি জাতীয় দৈনিক ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। তার দাবি, দেশে আগে হামে মৃত্যুহার ছিল প্রতি ১০ লাখে ১ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “এই সংসদে যারা আছেন, আপনারা সবাই কোনো না কোনো সন্তানের পিতা। সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার চেয়ে ভারী কিছু নেই। আমরা যে পরিসংখ্যান দিচ্ছি, এর পেছনে আছে একটি মায়ের কান্না, একটি পিতার আর্তনাদ, একটি পরিবারের ভেঙে পড়া।”
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই সন্তানের পিতা। আমাদের দরদ আছে। সন্তান হারানোর কষ্ট আমরা বুঝি।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আপনাকে সংসদে কথা বলতে নিষেধ করিনি, শুধু প্যানিক সৃষ্টি না করার কথা বলেছি। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আশা করি সম্মানিত সংসদ সদস্য ভবিষ্যতে আমাদের গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করবেন।”
সানা/আপ্র/৮/৪/২০২৬