দেশের সামনে অত্যন্ত কঠিন ও একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে সফলভাবে সরকার পরিচালনায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (৩১ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে যেমন কঠিন সময় রয়েছে, তেমনি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ও। এই সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিলে ক্ষতি হবে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় দেশ পরিচালনার চেষ্টা করছে।
তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই ইশতেহারে শহীদ জিয়ার পথনির্দেশনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগে নয়, জনগণ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সহযোগিতার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি বলেন, সরকারের সঠিক কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে তবেই সরকারের পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব। সংসদে বিএনপির ২১৪ জন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরিশ্রম করলেও জনগণ ও দলীয় কর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা যাবে না।
নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা নয়; বরং নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন। সে কারণে সরকারকে এ ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া জাতিকে শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তার সেই চিন্তার প্রতিফলন বর্তমান সরকারের শিক্ষা-সংক্রান্ত পরিকল্পনায় রয়েছে। একইভাবে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং শিল্পে বৈচিত্র্য আনার বিষয়ও সরকারের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব হলো দলকে সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত রাখা। দলকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে আন্দোলন ও নির্বাচনের মাধ্যমে যে দায়িত্ব অর্জিত হয়েছে, তা সফলভাবে পালন করে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নই হবে শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন।
সভায় ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৮৬ সালে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের সময়ের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে সময় এক বিদেশি ব্যক্তি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ করেছিলেন। এ ঘটনা তাকে পিতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও মর্যাদার বিষয়টি নতুনভাবে উপলব্ধি করতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছিল। এমন এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ও জিয়াউর রহমানকে বিশ্ববাসী একসঙ্গে চিনত।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদেরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জিয়াউর রহমানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সানা/আপ্র/৩১/৫/২০২৬