গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

জুবাইদা রহমানের সমালোচনায় সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫১ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:১৬ এএম ২০২৬
জুবাইদা রহমানের সমালোচনায় সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা
ছবি

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় কথা বলেন ফরিদা আখতার -ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সমালোচনা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ইরানে শিশু হত্যার প্রতিবাদ করতে পারতেন জুবাইদা রহমান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় ফরিদা আখতার এ কথা বলেন। গেল ২৫ মার্চ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ এ যোগ দেন জুবাইদা রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প।


দুই দিনের ওই আয়োজনে বিশ্বের ৪৫টির বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্র নেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেন। সেই সম্মেলনের কথা তুলে ধরে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা হয়তো পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন, আমার কাছে খুব প্রহসন মনে হয়েছে যে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তিনি বিশ্বের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য একটা মিটিং ডেকেছেন এবং সেখানে বিশ্বের ফার্স্ট লেডিদের তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। 

দুঃখজনকভাবে আমাদের ফার্স্ট লেডি সেখানে গেছেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রথম দিনে ১৭০ জনের মতো শিশু, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদেরকে মেরে তারা এরকম কথা বলে। এই ধৃষ্টতার জন্য তাদেরকে আমরা প্রতিবাদ জানাই। আমাদের ফার্স্ট লেডিও সেটার প্রতিবাদ করতে পারতেন।’

গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথা তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, আমেরিকার হামলার পর ইরানের মানুষ এতো কষ্টের মধ্যে, তাও ইরানের কোনো নাগরিককে ইন্টারভিউতে দেখি, তারা কেউ মাথা নত করেনি। এটা সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়। বরং তারা আরো প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন যে এ যুদ্ধ বিজয় না আসা পর্যন্ত তারা মাথা নত করবেন না। আমেরিকা সারা পৃথিবীতে মোড়লগিরি করে। সেখানে পৃথিবীতে একটা দেশ আমরা পেলাম যে তার সে মোড়লগিরিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

ইরানের যুদ্ধে নারীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের নারীরা নাকি খুব খারাপ অবস্থায় আছে। কিন্তু আমি দেখি যে স্টুডেন্ট হিসেবে ইউনিভার্সিটিতে ৫০ শতাংশ নারী আছেন, টেকনোলজিতে আছেন তারা সবকিছুতে আছেন। হ্যাঁ, এটা সত্য যে, তাদেরকে বিশেষ কিছু ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হয় বলে কিছু দোষ থাকতে পারে। কিন্তু তারা কখনোই বলেনি যে, ‘বাইরের কেউ এসে আমাদেরকে মুক্ত করে দিক। যা করার আমরাই করব। তাও আমাদের কোন বাইরের সাহায্য দরকার নেই।


মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরানের হামলার বিষয়ে সাবেক ফরিদা আখতার বলেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মারছে। সেখানে তারা মানুষ মারছে না। তারা চায়, আমেরিকার মোড়লগিরি না থাকুক।


ভাববৈঠকী আয়োজিত ‘সামাজ্রবাদী-জায়ানবাদী আগ্রাসন এবং ইরানের প্রতিরোধের রণকৌশল’ শীর্ষক সভায় আমন্ত্রিত ইরানের কয়েকজন প্রতিনিধিও ছিলেন।


তাদের উদ্দেশ করে ফরিদা আখতার বলেন, এখানে যারা ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে এসেছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা জানাতে চাই, আমরা ইরানের পাশে থাকবো। ইরানে যতদিন যুদ্ধ চলবে, আমরা তার পাশে আছি।


অনুষ্ঠানে ইরানের আল মুস্তাফা (সা.) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি বলেন, ইরানে আমেরিকার হামলার পর আমাদের সবচেয়ে বড় বিজয়, আমরা মানুষের মনে স্থান করে নিয়েছি। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আপনারা দেখেছেন, আমেরিকায় ১০ মিলিয়ন লোক রাস্তায় নেমে গিয়েছে। যেটা সামনে আরো বাড়তে থাকবে ক্রমাগতভাবে।

তিনি বলেন, আমরা জানি, এ যুদ্ধে পৃথিবীর বহু দেশে সাময়িক কষ্ট শুরু হয়েছে। তবে কষ্ট পুরো পৃথিবীকে অচিরেই স্বাধীনতা এনে দিবে। আপনারা বলেন, আমরা যদি আমেরিকার সাথে টেবিলে বসতাম, এটা কী সম্ভব হতো? আজকে আমেরিকা আমাদের কাছে নত হয়েছে। তারা আমাদের সাথে বসতে চাই গত দুইমাস ধরে। আমরা তাদেরকে নাকোচ করে দিয়েছি।


শাহাবুদ্দিনের মতে, আমেরিকাকে দুর্বল করতে হলে তার অর্থনীতিকে দুর্বল করতে হবে। সেজন্য হরমুজ প্রণালি দখলে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর, হরমুজ প্রণালি আমাদের অধিকার। আমরা আমেরিকা বাদে বাকি মুসলিম দেশগুলোকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। হরমুজ প্রণালিতে পাকিস্তানের কয়েকটি জাহাজ আটকে ছিল। সেগুলোকে আমি কথা বলে ছাড়িয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশের ৬টা জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হওয়ার অনুমতি দিয়েছি।


এ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে লেখক ফরহাদ মজহার কথা বলবেন। মোহাম্মদ রোমেলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভার প্রথম পর্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকায় ইরানের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী।


সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার
১৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এলজিপির দাম নির্ধারণে আগামী ২৯ অক্ট...

এ মুহূর্তে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৪ অক্টোবর ২০২৬

এ মুহূর্তে অপারেশন ক্লিনহার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর মতো কোনো অভিয...

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
১৪ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

দেশের তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদকের ভয়াবহ থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি...

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
১৪ অক্টোবর ২০২৬

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল ক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে