বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ মানেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই এমন একটি দৃশ্য ছিল- যা কোটি দর্শকের নজর কাড়ে। সেটি হলো বিশ্বকাপ ট্রফির মাঠে আগমন। আর ওই ট্রফিকে বহন করে আনে একটি বিশেষ ট্রাঙ্ক- যা ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের সেরা দল স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচের আগে ঐতিহ্য মেনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাঠে আনা হয় বিশ্বকাপ ট্রফি। আর সেটি থাকে বিশ্বের বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড লুই ভিতোঁর হাতে তৈরি এক অনন্য ট্রাঙ্কে। প্রথম দেখায় এটি সাধারণ একটি ট্রাঙ্ক মনে হলেও বাস্তবে এটি বহু ঘণ্টার সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ফল। ফ্রান্সের আসনিয়ের-সুর-সেন শহরে অবস্থিত লুই ভিতোঁর ঐতিহাসিক কর্মশালায় দক্ষ কারিগরেরা হাতে তৈরি করেন এই ট্রাঙ্ক। এর বাইরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে ব্র্যান্ডটির স্বাক্ষর মনোগ্রাম ক্যানভাস। সামনে বড় করে আঁকা সোনালি ভি অক্ষর একই সঙ্গে ‘ভিক্টরি’ এবং ‘ভিতোঁ’-এর প্রতীক। চামড়ার কারুকাজ, ধাতব কোণা, বিশেষ লকিং ব্যবস্থা ও ক্লাসিক ক্ল্যাপস মিলিয়ে পুরো নকশায় ফুটে ওঠে প্রায় দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য।
বিশ্বকাপ ট্রফি বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ক্রীড়া প্রতীকগুলোর একটি। তাই শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রেখে তৈরি করা হয় ট্রাঙ্কটি। ভেতরের অংশে রয়েছে নরম বেইজ রঙের চামড়ার আস্তরণ- যাতে ট্রফি কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে বহন করা যায়। ঢাকনার ভেতরে ফিফা এবং লুই ভিতোঁর লোগো যুক্ত করা হয়েছে- যা দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের স্মারক।
বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রফি প্রদর্শনের এই বিশেষ আয়োজন শুরু হয় ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ থেকে। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একজন লুই ভিতোঁ অ্যাম্বাসাডর ও একজন ফিফা কিংবদন্তি মাঠে নিয়ে আসেন সোনালি ট্রফিটি। এই কয়েক মিনিটের অনুষ্ঠান এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম আইকনিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্বকাপ ট্রফির অফিসিয়াল ট্রাঙ্ক তৈরির দায়িত্ব লুই ভিতোঁ প্রথম পায় ২০১০ সালে। এরপর ব্রাজিল, রাশিয়া, কাতার হয়ে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করছে তারা। অর্থাৎ টানা পঞ্চমবারের মতো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করল এই ফরাসি বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান।
বর্তমান সময়ে বিশ্বকাপ কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি বৈশ্বিক সংস্কৃতি, বিনোদন ও ব্র্যান্ডিংয়েরও সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর একটি। তাই লুই ভিতোঁর মতো বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বিশ্বকাপকে আরও আলাদা মাত্রা দিয়েছে। শুধু বিশ্বকাপ নয়, এনএফএলের ভিন্স লোম্বার্ডি ট্রফি থেকে শুরু করে ফর্মুলা-১-এর বিভিন্ন গ্রাঁ প্রির ট্রফি উপস্থাপনাতেও আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণ এখন নিয়মিত ঘটনা।
ফাইনালের রাতে দর্শকদের চোখ থাকবে অবশ্যই বিশ্বকাপ ট্রফির দিকে। তবে ট্রফি মাঠে আসার সেই কয়েক মিনিটে সমান আলোচনায় থাকে লুই ভিতোঁর বিশেষ ট্রাঙ্কটিও। কারণ এটি কেবল একটি বাক্স নয়; এটি ফুটবল, ঐতিহ্য, বিলাসিতা এবং বিজয়ের প্রতীক- যেখানে নিরাপদে রাখা থাকে বিশ্বের কোটি মানুষের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্বপ্ন। সূত্র: ফিফা।
কেএমএএ/আপ্র/২০.০৭.২০২৬