গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্বগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৬ পিএম, ২০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০০:০০ এএম ২০২৬
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের দায়িত্বগ্রহণ
ছবি

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নাম যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন -ছবি রয়টার্স

লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর সোমবার (২০ জুলাই) রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে শুরু হলো বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যাত্রা।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে কিয়ার স্টারমার বাকিংহাম প্যালেসে গিয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর তিনি প্যালেস ত্যাগ করলে সেখানে পৌঁছান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী রাজা তাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাকিংহাম প্যালেস থেকে বের হয়ে বার্নহ্যাম ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে তার দপ্তর।

বিদায়ী বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার তার উত্তরসূরি বার্নহ্যামের সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, “আমি সৌজন্যের সঙ্গে, হাসিমুখে এবং আমাদের অর্জন নিয়ে গর্বিত অবস্থায় বিদায় নিচ্ছি।”

৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার আগে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চূড়ান্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রিসভায় বিদায়ী সরকারের কতজন সদস্য থাকবেন, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।

বার্নহ্যাম লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে জয়কে গত চার দশকের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট, দুর্বল হয়ে পড়া জনসেবা খাত এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা মোকাবিলাই হবে তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে ‘আরো স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল রাজনীতির’ পথরেখা তুলে ধরবেন বলে তার দপ্তর জানিয়েছে। বার্নহ্যাম বলেছেন, তার সরকার আগামী সপ্তাহ থেকেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং দেশের সব অঞ্চলের উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

তবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে। দীর্ঘদিনের স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জনসেবা খাতের সংকট, করনীতি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হবে তাকে।

বার্নহ্যামের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে মন্ত্রিসভা গঠন, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী নির্বাচন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে অতীতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যকার মতপার্থক্যের কারণে একাধিক সরকার সংকটে পড়েছে। ফলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, সেদিকে বিশেষ নজর রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী পদে শুরুতে জ্বালানি নিরাপত্তামন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম আলোচনায় থাকলেও বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বার্নহ্যামের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে সব চাকরিজীবীর জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি এই প্রকল্পকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।

নতুন সরকারের বড় নজর থাকবে কর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় সংকোচন, তেল-গ্যাস খাত এবং আর্থিক সংকটে থাকা জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যতের দিকে। বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে পানি, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন।

তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঋণগ্রস্ত পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টেমস ওয়াটারকে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

ব্রেক্সিটপন্থি রাজনীতিবিদ নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বার্নহ্যামকে কার্যকর নেতা হিসেবে দেখছেন লেবার পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা। তাদের মতে, জনপ্রিয়তা হারানো স্টারমারের তুলনায় বার্নহ্যাম নতুন রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন।

গত মাসে উপনির্বাচনের মাধ্যমে পার্লামেন্টে ফিরে আসা বার্নহ্যামের সামনে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, জনসেবার মান উন্নত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য কোন পথে এগিয়ে যাবে, তা নির্ভর করবে তার সরকারের প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলোর ওপর। অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাজ্যের অবস্থানও নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে তার সরকারকে।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২০/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ট্রাম্পের চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নগদ উপহার, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাম্পের চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নগদ উপহার, নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর তার ঘনিষ্ঠ চার সহযোগীকে হাজার হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছে...

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কঠিন ফাঁদে দক্ষিণ কোরিয়া
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে কঠিন ফাঁদে দক্ষিণ কোরিয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে ‘মারাত্মক প...

বসতি নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১২ ব্রিটিশের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বসতি নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১২ ব্রিটিশের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার জবাবে ১২ ব্রিটিশ নাগরিক...

হরমুজে দুই মার্কিন জাহাজ ও আট ট্যাংকারে হামলার দাবি
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজে দুই মার্কিন জাহাজ ও আট ট্যাংকারে হামলার দাবি

হরমুজ প্রণালির কাছে পারস্য উপসাগরে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবি কর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই