সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সোমবার (২০ জুলাই) সকালে এ অভিযান চালানো হয়। দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, সংস্থাটির উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অবস্থিত জিয়াউল আহসানের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন মালামালের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এর আগে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় গত ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়াউল আহসান নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি অনুমোদিত সীমার বাইরে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রেখেছেন।
এজাহারে বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তার বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অর্থ তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতা ও যোগসাজশে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
এর আগে জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছিল আদালত।
জিয়াউল আহসান সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত সরকারের সময়ে তিনি আলোচিত ও প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পরদিন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২০/৭/২০২৬