সাড়ে চার দশক আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার চাকরিচ্যুত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই আইনে পৃথকভাবে বিচার করা যায় না। যেহেতু ওই ঘটনায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার সামরিক আইনে হয়েছিল, তাই মোজাফফরের ক্ষেত্রেও একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়েছিল। ওই বিচারে ১৩ জন সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই ঘটনায় বেসামরিক আদালতে কোনো বিচার হয়নি।
তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় পুলিশ একটি মামলা করেছিল। ওই মামলায় ছয় নম্বর আসামি ছিলেন মেজর মোজাফফর হোসেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিল, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছেই অবস্থান করছিলেন।
পরে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য থানা পুলিশ ও সিআইডি আদালতের কাছ থেকে ১৭৩ বার সময় নেয়। শেষ পর্যন্ত ২০০১ সালের ২৪ অক্টোবর তদন্তে রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পরে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন না করায় মামলাটি পুনঃতদন্তে পাঠানো হয়নি।
এর মধ্যে গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মেজর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, দীর্ঘদিন আগে দায়ের করা চট্টগ্রামের মামলাটি নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করা হবে কি না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একই ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুই আইনে আলাদা আলাদাভাবে ট্রায়াল করা যায় না। এখানে সামরিক আইন প্রযোজ্য এবং সহঅভিযুক্তদের বিষয়ে যে বিচার হয়েছে, সেটি সেনা আইনের অধীনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “ওই ঘটনার একই ব্যক্তি এতদিন পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আমরা সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। তারা তাদের বিধি অনুযায়ী জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।”
এদিকে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি হতাহতের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থলমাইন শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করে বিজিবিকে দেওয়া হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দিয়ে তারা কাজ করছে।
মিয়ানমার ও ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুটি সীমান্তের পরিস্থিতি এক নয়। মিয়ানমার সীমান্ত বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় দেশটির সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। পাশাপাশি সেখানে আরএসও, আরসা এবং অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সংঘাতের পাশাপাশি মাদক চোরাচালানও সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সানা/আপ্র/২০/৭/২০২৬