ঈদুল আজহা মানেই পরিবারের সঙ্গে মাংসের নানা পদের আয়োজন। তবে আনন্দঘন এই সময়েই অনেকের পেট ব্যথা, গ্যাস, পাতলা পায়খানা কিংবা হজমের সমস্যার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বেশি মাংস খাওয়াই নয়, এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু মানুষের শরীর গরু বা খাসির মাংস সহজে সহ্য করতে পারে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানা, বমিভাব, শরীরে চুলকানি এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
তবে সব ক্ষেত্রে বিষয়টি অ্যালার্জির কারণে হয় না। অনেক সময় অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে। ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড়ানো ব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কোরবানির মাংস সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা পর্যাপ্তভাবে রান্না না হলে তাতে জীবাণু জন্মাতে পারে। এতে খাদ্যজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বমি, পেট ব্যথা, পাতলা পায়খানা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এসব উপসর্গ কমে গেলেও জ্বর, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এ ছাড়া যাদের পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস হজম করা আরও কঠিন হতে পারে। এতে পেট ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া বা শরীর হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো জটিল লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোরবানির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা উচিত। মাংস ভালোভাবে রান্না করতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই উত্তম।
সচেতনতা ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে কোরবানির আনন্দ যেমন অটুট থাকবে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে আসবে।
এসি/আপ্র/০২/০৬/২০২৬