সপ্তাহব্যাপী শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা, লাখো মানুষের শোক আর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সমাহিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের শেষ পর্বেও মাশহাদে মানুষের ঢল নামে। ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শোকাহত মানুষ অংশ নেন শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে খামেনির কফিন মাশহাদে পৌঁছানোর পর পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি এজেই, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবের, মাশহাদের জুমার নামাজের ইমাম আয়াতুল্লাহ আহমাদ আলামোল-হোদাসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
দাফনের আগে ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে খামেনির শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন তার ছেলে মোস্তফা খামেনি। পরে মাজারের ‘দার আল-দিকর রাওয়াক’ হলওয়েতে তাকে সমাহিত করা হয়।
খামেনির শেষ বিদায়কে ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাশহাদের রাস্তায় নামে লাখো মানুষ। শোকের আবহের পাশাপাশি অনেকের কণ্ঠে ছিল প্রতিশোধের দাবি। বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায় লাল পতাকা, যা শিয়া ঐতিহ্যে প্রতিশোধ ও রক্তের বদলার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেক নারী-পুরুষ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ডে তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানান।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এখানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর শোক রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষাও। আমরা সবাই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে এখানে এসেছি।’
এর আগে খামেনির মরদেহ ইরাকে নেওয়া হলে সেখানেও বড় ধরনের বিদায়ী আয়োজন হয়। তাসনিম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ইরাকের নাজাফে ইমাম আলীর মাজার ঘিরে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষ শোক মিছিলে অংশ নেন। এরপর মরদেহ কারবালার পথে নেওয়া হয়।
খামেনির মরদেহ দেশে ফেরানোর আগে তেহরান ও কোম নগরেও বড় আকারের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিজ বাসভবনে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হন বলে ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চে নির্ধারিত শেষকৃত্যের আয়োজন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে গত শুক্রবার থেকে ইরানজুড়ে শুরু হয় সপ্তাহব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা এতে অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মুসাল্লায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিদায় অনুষ্ঠানের পর খামেনির কফিন নেওয়া হয় কোম ও পরে ইরাকে। শেষ পর্যন্ত মাশহাদে এসে শেষ হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শেষ যাত্রা। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৭/২০২৬