ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে আবারো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার দলকে দুর্বল করতে এবং নেতাকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে বিজেপি নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মমতা বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে শেষ করতে বা তাকে নীরব করতে হলে তাকে হত্যা করতে হবে।
এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার জন্য বিজেপি কোনো চেষ্টা বাকি রাখেনি। আমাকে চুপ করাতে হলে আপনাদের আমাকে মেরে ফেলতে হবে। আপনারা এটা করতে কোনো কিছু বাকি রাখেননি।’’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূল নেত্রী দাবি করেছেন, তার দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘‘কার ওপর আপনারা হামলা করেননি? মহুয়া মৈত্র, অভিষেক ব্যানার্জী, কল্যাণ ব্যানার্জী-আমার দলের অধিকাংশ নেতাকেই আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি আমার বাড়িতেও হামলা হয়েছে।’’
মমতা আরো অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা তার দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। তাদের মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং অনেককে কোমরে দড়ি ও পায়ে শিকল পরিয়ে হাঁটানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। কারও কারও মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলোতে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচিতে ডিমের পরিবর্তে সবজি দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, শিশুরা মধ্যাহ্নভোজে ডিম পাচ্ছে না, যা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মমতা বলেন, ‘‘আমরাও ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিলাম। কিন্তু আমার সময়ে কখনো এমন হয়নি।’’ মমতার এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সানা/ডিসি/আপ্র/১০/৭/২০২৬