গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সেতুর অভাবে দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫৯ পিএম, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৫৫ এএম ২০২৬
সেতুর অভাবে দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটে গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী পারাপারের ব্যবস্থা। ফলে সীমান্তবর্তী প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে আছে ছোট একটি খেয়া নৌকা কিংবা অস্থায়ী ভেলা।

একটি সেতুর অভাব শুধু মানুষের চলাচলকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শত শত মানুষ এই ঘাট দিয়ে নদী পারাপার হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষাকালে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে নৌকায় পারাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

কুলানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, ‘দেশে এত উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকায় তার সুফল পৌঁছেনি। রাস্তাঘাটের অবস্থা ভালো নয়, তার ওপর নদী পারাপারের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। এই অবহেলার কারণে অনেকে ওপারে বিয়েসহ নানা সামাজিক সম্পর্ক করতেও আগ্রহী হন না। আমরা যেন উন্নয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন একটি জনপদের মানুষ।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেতুর অভাবে। দুই পাড়ের কৃষকেরা উৎপাদিত ধান, ভুট্টা, আলু ও শাকসবজি সময়মতো বাজারে নিতে পারেন না। নৌকায় পারাপারের সময় অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের ক্ষতি হয়। আবার বাজারে দেরিতে পৌঁছানোর কারণে ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হন কৃষকেরা। এতে অনেকেই চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য তাদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পান। ফলে শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় সংকট। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে প্রথমে ঘাটে নৌকার অপেক্ষা করতে হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে ঘোড়াঘাট ও পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে মানুষের সময় ও যাতায়াত খরচ কমবে, পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কুলানন্দপুর ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বরিশালের সাতলায় লাল শাপলার রাজ্যে মুগ্ধ পর্যটক
২৫ আগস্ট ২০২৬

বরিশালের সাতলায় লাল শাপলার রাজ্যে মুগ্ধ পর্যটক

ভোরের নরম আলোয় বিস্তীর্ণ জলরাশিজুড়ে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা। কোথাও ফুলের ফাঁক দিয়ে ধীরে এগিয়ে চলছ...

চার খুনের পুলিশের বয়ান নিয়ে প্রশ্নের মুখে তদন্ত, মামলার দায়িত্ব ডিবিতে
২৫ আগস্ট ২০২৬

চার খুনের পুলিশের বয়ান নিয়ে প্রশ্নের মুখে তদন্ত, মামলার দায়িত্ব ডিবিতে

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক ব...

ঘুম থেকে তুলে ছেলেকে পুলিশের হাতে দিই: সিদ্ধার্থের বাবা
২৫ আগস্ট ২০২৬

ঘুম থেকে তুলে ছেলেকে পুলিশের হাতে দিই: সিদ্ধার্থের বাবা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘ...

মায়ের চিকিৎসার টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকের সামনে কান্না
২৫ আগস্ট ২০২৬

মায়ের চিকিৎসার টাকা তুলতে না পেরে ব্যাংকের সামনে কান্না

চট্টগ্রামে আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হালিশহর অফিসের সামনে বি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে