আজাদুর রহমান: বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি মেয়েদের এতিমখানার নামে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও পৃথক ব্যাংক হিসাব খোলার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগের তীর গাবতলী উপজেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক দৌলত জামান খানের দিকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাম আসা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন সাগর।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার সারোটিয়া পূর্বপাড়া হযরত ফাতেমা-তুজ-জোহরা (র.) এতিমখানার নামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা পরিষদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির অভিযোগ, তাদের না জানিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। পরে পৃথক ব্যাংক হিসাব খুলে বরাদ্দের অর্থ থেকে ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা। গত ২ জুলাই তিনি বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে বরাদ্দের অর্থ ফেরত ও ঘটনার তদন্ত দাবি করেন।
শারমিন সুলতানা বলেন, ‘এতিমখানার জন্য বরাদ্দের বিষয়টি আমরা জানতাম। কিন্তু গত ৩০ জুন জেলা পরিষদে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের অজান্তেই প্রকল্পের ১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর অর্থ ফেরত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি।’
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদত হোসেন সাগর। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি ওঠার পর এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জেলা পরিষদে যোগাযোগ করে অর্থ উত্তোলনের তথ্য জানতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে দৌলত জামান খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে শাহাদত হোসেন সাগর অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বগুড়া জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৭/২০২৬