বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ স্থলচর প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত সেশেলস জায়ান্ট কচ্ছপ ‘জোনাথন’ এখনো জীবিত রয়েছে বিস্ময়কর সুস্থতায়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার বয়স ১৯৪ বছর, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী স্থলচর প্রাণী এবং ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী কচ্ছপের মর্যাদা দিয়েছে।
ধারণা করা হয়, জোনাথনের জন্ম ১৮৩২ সালের দিকে। সে হিসেবে ব্রিটেনের ভিক্টোরিয়ান যুগ, লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ কিংবা ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার নির্মাণেরও বহু আগে পৃথিবীতে এসেছে এই কচ্ছপ। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে নানা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে সে।
বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘আলডাব্রাছেলিস জিগান্টিয়া হলোলিসা’ প্রজাতির এই সেশেলস জায়ান্ট কচ্ছপ বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাস করছে। স্থানীয়দের কাছে সে পরিচিত ‘জোনো’ নামে।
বয়সের ভারে জোনাথন তার ঘ্রাণশক্তি হারিয়েছে। তবে তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা এখনও বেশ ভালো। স্থানীয় পশুচিকিৎসকদের ভাষ্য, তার খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রতিদিনের জীবনযাপনও বেশ সক্রিয়।
জোনাথনকে ঘিরে বিজ্ঞানীদের আগ্রহও কম নয়। তার ডিএনএ এবং কোষের বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘায়ুর রহস্য উদ্ঘাটনে এই কচ্ছপ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস হতে পারে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানিয়েছে, মানুষের বার্ধক্য ও দীর্ঘজীবন বিষয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় জোনাথনের শরীর থেকে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বর্তমানে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে গভর্নরের বাসভবনের বাগানে আরো তিনটি কচ্ছপের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছে জোনাথন। ঘাস খাওয়া, রোদ পোহানো এবং নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নেওয়াই তার প্রিয় কাজ। জন্মদিনে নিরামিষ কেক কেটে উদযাপন করার কারণেও দ্বীপবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই প্রবীণ প্রাণী।
প্রায় দুই শতাব্দীর জীবনযাত্রা পেরিয়ে জোনাথন আজ শুধু একটি কচ্ছপ নয়; বরং প্রকৃতির বিস্ময়কর সহনশীলতা, দীর্ঘায়ু এবং জীবনের অনন্য সম্ভাবনার এক জীবন্ত প্রতীক। সূত্র: এনডিটিভি
সানা/ডিসি/আপ্র/২০/৬/২০২৬