ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (০৯ আগস্ট) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে বিক্ষোভের মধ্যে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, জুতো ও পানির বোতল নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতার দাবি, গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে হামলায় তার গুরুতর ক্ষতি এমনকি প্রাণহানিও ঘটতে পারত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠা সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রোববার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনায় যান মমতা। পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
বিক্ষোভকারীরা মমতার গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং গাড়ির কাচে কাদা ছোড়েন। একপর্যায়ে গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল, জুতো ও পানির বোতল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘‘গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যেত। আমি মারাও যেতে পারতাম। জীবনে কখনো এমন হামলার মুখে পড়িনি।’’ পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।
মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের সমালোচনা করেন। কল্যাণ ব্যানার্জি অভিযোগ করেন, পুলিশকে ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাঠি নাড়ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিজেপি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন পুলিশ হেফাজতে তৃণমূলের সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার স্বামী বিরজু কেওটের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে তাকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও কেওটকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে তিনি জীবিত ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি
এসি/আপ্র/০৯/০৮/২০২৬