ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশে সামরিক মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেনারা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে এটি কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর প্রথম তৎপরতা।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর ওই হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, এই মহড়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনী দুটি এমভি-২২বি অসপ্রে আকাশযানও ব্যবহার করেছে। এই আকাশযান দুটি কারাকাসে মার্কিন দূতাবাসের কাছে নেমেছিল। এর পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ক্যারিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ করে।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত সম্ভাব্য জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগ মোকাবেলায় লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার মহড়া হিসেবে এর অনুমোদন দিয়েছিল তারা। এ বিষয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এক বিবৃতিতে কারাকাসের মার্কিন দূতাবাস বলেছে, তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন পর্যায়ের পরিকল্পনা ‘বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’, বিশেষ করে ‘ভেনেজুয়েলার স্থিতিশীলতার’ জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার ফ্রান্সিস ডোনোভান একটি অসপ্রে আকাশযানে করে কারাকাসে উড়ে গিয়েছেন। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড দুই আমেরিকা মহাদেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানগুলোর তত্ত্বাবধান করে।
কারাকাসে বসবাসকারী এক প্রশাসক এভলিন রেবোলেদো (৫৭) বলেন, ‘এটি আমাদের সতর্ক রাখে। খোদ রাজধানীর উপর দিয়ে বিদেশি একটি দেশ উড়ে যাচ্ছে, এটি আমাদের কাছে নতুন। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো আসছে, এদের কারণে দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে ও বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এটি আমাদের একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের সরকারকে সমর্থন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রদ্রিগেস সরকার ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদ ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আইন পাশ করেছে।
সানা/আপ্র/২৫/৫/২০২৬