যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পেয়েছেন লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারল। সুদসহ মোট ৫৬ লাখ ২৫ হাজার ৫ ডলার ৪৮ সেন্ট তার আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে জুরির দেওয়া রায়ের পর এ অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আদালতের নথিতে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিচারক লুইস ক্যাপলানের নির্দেশে অর্থ ছাড় করা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সর্বোচ্চ আদালত তার আবেদন গ্রহণ করেননি। পরে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখার আবেদনও খারিজ হয়।
আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্যারলের আইনজীবীরা জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থ তিনি অবসরজীবনের জন্য সংরক্ষণ করবেন। তবে ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনার আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থটি সুদবাহী একটি ব্যাংক হিসাবে রাখা হবে।
এদিকে আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প। গত শুক্রবার তার আইনজীবীরা ফেডারেল আপিল আদালতে অর্থ হস্তান্তর স্থগিতের আবেদন করেন। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট পুনর্বিবেচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত অর্থ ছাড় দেওয়া উচিত নয়। তবে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ ছাড় স্থগিতের আবেদন ইতোমধ্যে খারিজ করেছে আপিল আদালত। সর্বশেষ আবেদনের বিষয়ে এখন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থই পাবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তারা বলেন, চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকে মামলাটি পরিচালনা করলেও এ ক্ষতিপূরণ থেকে তারা কোনো আইনগত ফি নেবেন না।
ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, তিন বছর আগে নয় সদস্যের সর্বসম্মত জুরি ট্রাম্পকে ই. জিন ক্যারলের ওপর যৌন নির্যাতন এবং পরবর্তী সময়ে তাকে মানহানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সেই রায়ের ভিত্তিতেই তিনি ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।
ই. জিন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা প্রথম নারী নন। তবে তিনিই প্রথম এ অভিযোগ আদালতে পূর্ণাঙ্গ বিচার পর্যন্ত নিয়ে যান। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি জানান, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ট্রাম্প তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন।
প্রথম বিচারে ট্রাম্প আদালতে উপস্থিত না থাকলেও অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ক্যারল বই বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ এনেছেন। জুরি ওই বক্তব্যকে মানহানিকর বলে রায় দেয় এবং যৌন নির্যাতনের দায় প্রমাণিত হওয়ায় ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
পরে সিএনএনের একটি টাউন হল অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারো ক্যারলকে কটাক্ষ করে অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ বানানো গল্প’ বলে মন্তব্য করেন। এ বক্তব্যও ২০১৯ সালের মানহানি মামলায় যুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় বিচারে ট্রাম্প আদালতে হাজির হয়ে সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য দেন। ওই মামলায় জুরি রায় দেয়, ২০১৯ সালে তার দেওয়া মন্তব্যও মানহানিকর ছিল। এজন্য ক্যারলকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধেও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়মুক্তির (প্রেসিডেনশিয়াল ইমিউনিটি) যুক্তি তুলে ধরে চলতি মাসের শেষ দিকে আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এসি/আপ্র/১৫/০৭/২০২৬