গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন কৃষি পদ্ধতিতে কৃষক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৯ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩০ এএম ২০২৬
তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন কৃষি পদ্ধতিতে কৃষক
ছবি

ছবি সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কুড়িগ্রামে বাড়ছে তাপমাত্রা, কমছে বৃষ্টিপাত। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় কৃষিতে টিকে থাকতে জৈব ও জলবায়ু-সহনশীল চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন জেলার কৃষকরা। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে মালচিং, ট্রাইকো কম্পোস্ট, ফেরোমন ফাঁদ ও রঙিন আঠালো ফাঁদের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি বাড়ছে ফলনও।

রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ছয় বছরে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর প্রভাব পড়েছে ফসল উৎপাদনে। এ পরিস্থিতিতে কৃষি বিভাগ ও উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় কৃষকরা জলবায়ু-সহনশীল চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর ও খণ্ডক্ষেত্র গ্রামে আরডিআরএস বাংলাদেশ এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় ২০ জন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন। তারা শিম, করলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শসাসহ বিভিন্ন ফসল চাষে ট্রাইকো কম্পোস্ট, মালচিং, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করছেন।

কৃষাণী লাভলী বেগম জানান, ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলার চাষ করে ভালো ফল পেয়েছেন। হলুদ আঠালো ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহারের কারণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমেছে, ফলনও বেড়েছে।

কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আগে নিয়মিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হলেও এখন জৈব সার, ফেরোমন ফাঁদ ও আঠালো ফাঁদ ব্যবহারে রোগবালাই কমছে এবং খরচও কমে এসেছে।

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, একসময় এ অঞ্চলে ধান ও পাটের চাষ বেশি হলেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এখন অনেক কৃষক সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং কৃষকদের আয় ও কর্মসংস্থান বেড়েছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, জৈব সার ও কম্পোস্ট মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায়, আর মালচিং পদ্ধতি দীর্ঘ সময় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাপপ্রবাহের সময় নতুন চারা রোপণ না করা, প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ, জৈব সার ব্যবহার এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কৃষক মাঠ স্কুল, প্রদর্শনী প্লট এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

এসি/আপ্র/১৫/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইউটিউব দেখে আনারকলি চাষ, ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা
১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউটিউব দেখে আনারকলি চাষ, ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা

সবজি চাষে বারবার লোকসানের মুখে পড়ে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে ইউটিউবের সহায়তা নেন মেহেরপুরের তরুণ কৃষি উদ্...

মানববসতি ও নদীভাঙনে বছরে হারাচ্ছে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি
১১ অক্টোবর ২০২৬

মানববসতি ও নদীভাঙনে বছরে হারাচ্ছে ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি

দেশে নগরায়ণ বৃদ্ধির সঙ্গে আবাসন, সড়ক, শিল্প ও অন্যান্য অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে জলবা...

খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা
১১ অক্টোবর ২০২৬

খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি নিশ্চিতে সারা দেশে ২০ হাজার কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে সর...

ঔষধি গাছ চাষে কৃষকের আয় বৃদ্ধিসহ শক্তিশালী করবে অর্থনীতি
১১ অক্টোবর ২০২৬

ঔষধি গাছ চাষে কৃষকের আয় বৃদ্ধিসহ শক্তিশালী করবে অর্থনীতি

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো অনেকটাই কৃষিনির্ভর। গ্রামের মানুষের আয়, জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে