ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আপত্তি তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল আটকে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন বা পরামর্শ ছাড়াই ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে।
সেনেটে ভোটের আগে এক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, ট্রাম্প কোনো অনুমোদন, স্পষ্ট কৌশল কিংবা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই ইরান যুদ্ধ শুরু করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথোরাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলের পক্ষে ৫০টি এবং বিপক্ষে ৪৬টি ভোট পড়ে। তবে ১০০ সদস্যের সেনেটে বিলটি পরবর্তী ধাপে নিতে প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট না পাওয়ায় এটি আটকে যায়।
ভোটে মূলত দলীয় অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে শুধু সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ রাখার জন্য বিপক্ষে ভোট দেন। অন্য সব রিপাবলিকান সদস্য বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
গত মাসে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিতে বিলটি পর্যালোচনার সময়ও ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল দুই দলের সমর্থনেই পাস হয়ে থাকে।
ইরান যুদ্ধে সমর্থনের আশঙ্কা ডেমোক্র্যাটদের: ডেমোক্র্যাটদের মূল আপত্তি হলো, এত বড় অঙ্কের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করা হলে সেটিকে ইরান যুদ্ধে কংগ্রেসের সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এ ভোট অনুষ্ঠিত হলো। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে হামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের সব বন্দরের ওপর আবার নৌ অবরোধ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা আরো অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের সামাজিক কর্মসূচির ব্যয় কমানোর উদ্যোগের মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক ব্যয় বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিতে চাইছে।
প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেটের বাইরে ট্রাম্প প্রশাসন বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরো ৩৫ হাজার কোটি ডলারের তহবিল অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন করেছে। এ প্রক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়াই অর্থ বরাদ্দ অনুমোদনের সুযোগ রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রিপাবলিকানদের: বিলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুন ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, এই বিল মার্কিন সামরিক বাহিনীকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে সহায়তা করবে।
এবারের প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিলে রেকর্ড ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা, সেনাদের বেতন বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিল পাসের প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি: যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিবছর প্রতিরক্ষা নীতিমালা বিল পাস হয়ে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে এটি দুই দলের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
তবে এবার সেনেটে আটকে গেলেও বিলের প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়। সাধারণত প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট পৃথকভাবে নিজেদের সংস্করণের বিল পাস করার পর সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির আলোচনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়।
পরে উভয় কক্ষে অনুমোদন পাওয়ার পর বিলটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর বা ভেটোর জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৭/২০২৬