২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইরানি মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি কারাগারের ভেতরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তার ফাউন্ডেশনের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) কারাগারে থাকাকালীন তিনি দুইবার সম্পূর্ণ জ্ঞান হারান এবং পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ইরানের জাঞ্জান শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। কারাগারের চিকিৎসকরা জানান, সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নেই। বারবার সুপারিশ করা হলেও তাকে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় কর্তৃপক্ষ তাকে হাসপাতালে নিতে বাধ্য হয়।
ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, স্থানান্তরটি ছিল শেষ মুহূর্তের একটি সিদ্ধান্ত, যা হয়তো তার জটিল শারীরিক অবস্থার জন্য দেরি হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে প্রচণ্ড বমি ও উচ্চ রক্তচাপের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে কারারক্ষীরা কারাগারের মেডিকেল ইউনিটে জরুরি চিকিৎসা দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে তার হৃদরোগের প্রথম লক্ষণ দেখা দেয়। তখন তাকে অত্যন্ত দুর্বল ও ফ্যাকাশে অবস্থায় দেখা যায় এবং হাঁটার জন্য নার্সের সহায়তা নিতে হয়। এর আগেও তার তিনবার এনজিওপ্লাস্টি করা হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
৫৩ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদি গত ১২ ডিসেম্বর মাশহাদ শহর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কারাবন্দী রয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে ১৩ বছর ৯ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল, যা পরে অসুস্থতার কারণে ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্যারোলে স্থগিত ছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে নতুন করে সাত বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, একটি স্মরণসভায় তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং শান্তি ভঙ্গের চেষ্টা করেছেন।
উল্লেখ্য, ইরানে নারীর অধিকার ও মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের জন্য কারাবন্দী অবস্থাতেই নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন নার্গিস মোহাম্মদি।
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৫/২০২৬