পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের বৈরী দুই পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে। আলোচনা শুরুর আগে কূটনৈতিক অগ্রগতি ও ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি–সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা পরে হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থের একটি অংশ ছাড় দিতে যুক্তরাষ্ট্র নাকি সম্মত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ওই তথ্য নাকচ করেন। একই সঙ্গে ইরানি একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, আলোচনায় আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে সম্পদ ছাড়কে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কাতারে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিশ্চিত করেনি।
এর মধ্যেই ইসলামাবাদে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় ফরম্যাটে আলোচনা চলছে। তবে দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আলোচনার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “সম্পূর্ণ অবিশ্বাস” থাকার কথা উল্লেখ করেন এবং অতীত অভিজ্ঞতাকে “প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ” হিসেবে অভিহিত করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনাকে “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি দেশবাসীকে আলোচনার সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
এদিকে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সানা/আপ্র/১১/৪/২০২৬