মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলের হাইফা, তেল আবিব ও জেরুজালেমের সামরিক ও নাগরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানেছে। একই সঙ্গে কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তেহরান।
সামরিক ও নাগরিক ক্ষতি: * লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও কয়েকজন আহত।
* সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দরে ড্রোন আঘাতে চারজন আহত, ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি।
* তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে রাতের বেলা বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার ছবি পাওয়া গেছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি যুদ্ধের শুরুতে আহত হলেও সচেতন অবস্থায় নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। প্রেসিডেন্টের ছেলে নিশ্চিত করেছেন, তিনি দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সামরিক ক্ষতি ও প্রতিরক্ষা: * মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে মাইন পুঁতে রাখা ১৬টি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে।
* ইরানি ‘মাইন-পাঠানো নৌযান’ ধ্বংসের ঘটনায় মার্কিন বাহিনীর ১০ দিনের যুদ্ধে প্রায় ১৪০ জন সেনা আহত। ১০৮ জন দায়িত্বে ফিরে গেছেন, গুরুতর আহত আট সেনার সর্বোচ্চ চিকিৎসা চলছে।
* ইরান দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে।
তেলের বাজারে প্রভাব: * মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার অস্থিতিশীল।
* আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ থেকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে।
* বাংলাদেশে বিপিসি অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
বাণিজ্য ও বিমান চলাচল জটিলতা: * পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ভারতীয় এয়ারলাইন্সের ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ করতে বাধ্য।
* এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগোর এক হাজার ২৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৪ শতাংশ চালাতে পারেনি।
* ইন্ডিগোর লন্ডন-মুম্বাই ফ্লাইট ১৩ ঘণ্টা আকাশে থাকার পর পুনরায় দিল্লিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা: * মার্কিন কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস মধ্যপ্রাচ্যের উপগ্রহ ছবি সরবরাহে বিলম্ব করেছে, শত্রুপক্ষের হাতে ছবির তথ্য না যাওয়াই উদ্দেশ্য।
* যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ডুবে যাওয়া ইরানি যুদ্ধজাহাজের ৮৪ নাবিকের মরদেহ ইরানের দূতাবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে।
* ২০৮ জন ইরানি নাবিককে শ্রীলঙ্কা ৩০ দিনের এন্ট্রি ভিসা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: * মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধ শুরুতে ইরানের অস্ত্রাগার ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করেছে।
* পেন্টাগনের জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, “ইরান প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শক্তিশালী নয়, তবে তারা লড়ছে।”
* ইরানের বিপ্লবী গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে এক ফোঁটা তেলও যাবে না।
সানা/আপ্র/১১/৩/২০২৬