গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

দুই দশক পর বাবাকে খুঁজে পাওয়ার সিনেমাটিক ঘটনা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৮ পিএম, ০৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৫৩ এএম ২০২৬
দুই দশক পর বাবাকে খুঁজে পাওয়ার সিনেমাটিক ঘটনা
ছবি

ঝাং ইউনপেং ও তাঁর বাবা -ছবি সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

চার বছর বয়সে কাকার সঙ্গে রেলস্টেশনে গিয়ে হারিয়ে যান ঝাং ইউনপেং। এখন তাঁর বয়স ২৮ বছর। এত দিন পর নিজের বাবাকে খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তরুণ ঝাংয়ের জীবন যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

২০০১ সালে কাকার হাত ধরে চীনের উত্তর-পূর্বের লিয়াওনিং প্রদেশের শেনইয়াং রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিল ঝাং জুনিয়র। কাকা তাকে বসিয়ে রেখে আইসক্রিম কিনতে যান। আর ফিরে আসেননি। এরপর ছোট্ট ঝাংয়ের জায়গা হয় পৌর কল্যাণ কেন্দ্রে। সেখানে তার নাম রাখা হয় শেন হুয়াবাই।

প্রায় চার বছর পর, ২০০৫ সালে কানাডীয় এক দম্পতি ঝাং জুনিয়রকে দত্তক নেন। কিন্তু কানাডায় গিয়েও বালক ঝাংকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। কানাডায় যাওয়ার তিন মাস পর ঝাংয়ের দত্তক মা–বাবার বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁরা কেউ বালক ঝাংয়ের দায়িত্ব নিয়ে রাজি হননি।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি পরিবারের সঙ্গে ঝাংয়ের থাকার ব্যবস্থা করে। ওই পরিবারে আরো নয়টি শিশু ছিল। বালক ঝাং সেখানে খুব একটা যত্ন পায়নি।
এদিকে ঝাং যখন হারিয়ে যায়, তখন তাঁর বাবা কারাগারে ছিলেন। আর মা স্বামীকে ছেড়ে অন্য জায়গায় বিয়ে করেছিলেন। হাইস্কুল পাস করার পর কাজ শুরু করেন ঝাং। গত বছর ‘বেবি রিটার্নিং হোম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এই প্রতিষ্ঠান চীনের ভেতর হারিয়ে যাওয়া শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিবারের পুনর্মিলন নিয়ে কাজ করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কয়েকটি সফল পুনর্মিলনের ঘটনা দেখে তরুণ ঝাংয়ের মনেও নিজের মা-বাবাকে খুঁজে পাওয়ার আশা জাগে। সংস্থাটি থেকে গাও ইয়াং নামে কানাডায় অবস্থান করা এক চীনা পিএইচডি শিক্ষার্থীকে বলা হয় ঝাংকে সাহায্য করতে। ঝাংয়ের রক্তের নমুনা চীনের ন্যাশনাল ডিএনএ ডেটাবেজে পাঠানো হয়। কয়েক দিন পরই তাঁর জন্মদাতা মা-বাবার পরিচয় শনাক্ত হয়।
অবশেষে আসে বাবা-ছেলের পুনর্মিলনের সেই মহেন্দ্রক্ষণ। বাবা ছেলেকে দেখে বলে ওঠেন, ‘২০ বছর পার হয়ে গেছে, অবশেষ আমি তোমাকে দেখতে পেলাম।’ উত্তরে ছেলে বলে ওঠেন, ‘বাবা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’

সিনিয়র ঝাং অবশ্য ছেলের ছবি দেখেই তাঁকে চিনতে পারেন। তিনি বলেন, ‘যখনই আমি তার ছবি দেখি, আমি বুঝে যাই, সে–ই আমার ছেলে। সে দেখতে হুবহু আমার মতো। দ্বিতীয়বার যাচাই করার কোনো প্রয়োজন আমার কাছে ছিল না।’
ঝাংয়ের মায়ের সঙ্গে তখনো তাঁর দেখা হয়নি। তিনি বর্তমানে চীনের অন্য একটি প্রদেশে বসবাস করেন। ঝাং এখন কানাডার নাগারিক। তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছিল বিধায় বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর তিনি কানাডায় ফিরে যান। গাও ইয়াং বলেন, ঝাং এখনো তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করেননি।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

হজে গিয়ে মৃত্যু, জান্নাতুল বাকিতে দাফন হলেন জামালপুরের শিক্ষক
২৮ এপ্রিল ২০২৬

হজে গিয়ে মৃত্যু, জান্নাতুল বাকিতে দাফন হলেন জামালপুরের শিক্ষক

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মো. আব্দুল হাই ব...

বিরিয়ানি–তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু
২৮ এপ্রিল ২০২৬

বিরিয়ানি–তরমুজ খাওয়ার পর একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু

ভারতের মুম্বাই শহরে বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস...

মাটির নিচে নতুন মাছের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা
২৮ এপ্রিল ২০২৬

মাটির নিচে নতুন মাছের সন্ধান, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

ভারতের গোয়ালপাড়া জেলায় ভূগর্ভস্থ পানির উৎসে এক অজানা প্রজাতির মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আব...

কলম্বিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ২১
২৮ এপ্রিল ২০২৬

কলম্বিয়ায় মহাসড়কে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ২১

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মহাসড়কে শক্তিশালী বোমা হামলায় অন্তত ২১ জন নিহ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই