ইরানে ইসরায়েলের হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কামান্ডার নিহত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স। তিনটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি।
ইসরায়েলের অভিযানের সঙ্গে দুটি ও আঞ্চলিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ ও আইআরজিসি কামান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌর তেল আবিবের হামলায় নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে দেশটির শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বহু বেসামরিক অবকাঠামোও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শিকার হয়েছে। ইতোমধ্যে ইরানের দু’টি স্কুলে ইসরায়েলের হামলায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে।
হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, ঘাঁটিটি হামলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে বিশাল কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। হামলায় ঘাঁটিটির কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
এছাড়া আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত অঞ্চলটিতে থাকা সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমান ঘাঁটি আল-উদেইদ লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিলো।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদ লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। এ অভিযানকে ‘ট্রুথফুল প্রমিস ৪’ নামে আখ্যা দিয়েছে আইআরজিসি। তারা বলছে, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ঘাঁটি ও সম্পদে হামলা করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/০১/৩/২০২৬