মেয়াদ শেষ হতে চলা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে বিষয়গুলো দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যেই আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়েও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক চলছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রণধীর জয়সওয়াল।
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সাবেক সভাপতি ও ফেডারেশন অব প্রেস ক্লাবসের সভাপতি গৌতম লাহিড়ী জানতে চান, বাংলাদেশের পানিসম্পদবিষয়ক মন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ঢাকা গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়ন করতে চায় না; বরং চুক্তিটি পর্যালোচনা করে নতুনভাবে দেখতে চায়। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমাদের যৌথ নদী কমিশন রয়েছে। গঙ্গাসহ অন্যান্য নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে সব কিছু ওই কমিশনেই আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি নিয়েও কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও চলমান রয়েছে।”
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চায়। নতুন চুক্তিতে পানির নিশ্চয়তা সংক্রান্ত ধারা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে জুলাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছিলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত চুক্তিটির গুরুত্ব বিবেচনায় রাখবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।
তিনি বলেন, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। সব আলোচনা প্রকাশ্যে আসে না। আলোচনার মধ্য দিয়ে ভারত গঙ্গা চুক্তি ও গঙ্গার পানির গুরুত্ব বুঝবে এবং তা বিবেচনায় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা করেন।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কায় গঙ্গার পানিপ্রবাহ দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত সূত্র অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
চুক্তির সংযুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রাপ্যতা ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি পায়। পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেকের মধ্যে থাকলে বাংলাদেশ ৩৫ হাজার কিউসেক পায় এবং অবশিষ্ট পানি ভারত পায়। আর প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পায় এবং অবশিষ্ট পানি বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত হয়। মার্চের ১১ তারিখ থেকে মে মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত বিকল্প ১০ দিনের তিনটি সময়ে দুই দেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক করে পানি দেওয়ার নিশ্চয়তার কথাও চুক্তিতে রয়েছে।
এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সম্পর্কেও রণধীর জয়সওয়ালের কাছে জানতে চান গৌতম লাহিড়ী। জবাবে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
সানা/আপ্র/৩০/৯/২০২৬