মালিক চোখের পলক ফেললে কুকুরও তুলনামূলক বেশি পলক ফেলে-এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, মানুষের চোখের সূক্ষ্ম নড়াচড়ার প্রতি কুকুরের এই সংবেদনশীলতা সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ইতালির পারমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কিয়ারা কানোরি ও তাঁর সহকর্মীরা বিভিন্ন জাতের ৩৫টি কুকুরের ওপর গবেষণাটি চালান। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স-এ।
গবেষণায় কুকুরগুলোকে দুই ধরনের ভিডিও দেখানো হয়। প্রতিটি ভিডিওতে তাদের মালিক এবং দুজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখানো হয়। এক ভিডিওতে মানুষগুলো প্রতি তিন সেকেন্ডে একবার চোখের পলক ফেলছিলেন। অন্যটিতে তাঁরা পলক না ফেলে সরাসরি তাকিয়ে ছিলেন।
ফলাফলে দেখা যায়, মানুষের পলক ফেলার দৃশ্য দেখার সময় কুকুরেরা তুলনামূলক বেশি পলক ফেলেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা কেবল মালিকের পলক ফেলার ক্ষেত্রে নিজেদের পলক ফেলার হার বাড়িয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
গবেষকদের মতে, সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কুকুরের আচরণে এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে কুকুর ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দেওয়ার জন্য পলক ফেলে-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরা কুয়ায়া বলেন, গবেষণাটি কুকুরেরা চোখের পলককে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে কি না, তার চেয়ে মানুষের পলকের প্রতি তাদের সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়ে বেশি তথ্য দিয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৮/২০২৬