গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৩ এএম ২০২৬
বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ
ছবি

বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানবজাতির চন্দ্রাভিযানে নতুন ইতিহাস গড়েছে আর্টেমিস টু মিশন। এই অভিযানে নভোচারীরা শুধু বৈজ্ঞানিক সাফল্যই অর্জন করেননি, বরং চাঁদ ও পৃথিবীর এমন সব বিস্ময়কর ছবি ধারণ করেছেন, যা বিশ্ববাসীকে অভিভূত করেছে। এসব ছবির পেছনে ছিল পরিকল্পিত প্রস্তুতি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষায়িত ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণ।

মিশন শুরুর আগে নভোচারীদের প্রায় বিশ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ দেন নাসার ফটোগ্রাফি ও ভিডিও বিশেষজ্ঞরা। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল—মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে নিখুঁত ও বৈজ্ঞানিক মানসম্পন্ন ছবি তোলা যায়। প্রশিক্ষকদের ভাষায়, সাধারণ মানের ছবি নয়, বরং উচ্চমানের নির্ভুল চিত্রই ছিল তাদের লক্ষ্য।

এই প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নভোচারীরা ভূমিতে বিশেষ অনুশীলনে অংশ নেন। অন্ধকার কক্ষে ঝুলন্ত কৃত্রিম চাঁদের গ্লোব ব্যবহার করে তারা মহাকাশযানের প্রতিরূপের ভেতর থেকে ছবি তোলার চর্চা করেন। এতে মহাকাশের বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়।

মিশনে ব্যবহৃত প্রধান ক্যামেরা ছিল ২০১৬ সালে বাজারে আসা একটি উন্নতমানের ডিজিটাল ক্যামেরা, যা বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মহাকাশের বিকিরণ ও চরম পরিবেশেও এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। বিশেষ করে অল্প আলোতেও স্পষ্ট ছবি ধারণের সক্ষমতা এটিকে এই অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

এছাড়া, সর্বাধুনিক স্মার্টফোনও এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। হাতে ধরে সহজে ছবি তোলার সুবিধা থাকলেও এর বড় আকারের ফাইল পৃথিবীতে পাঠানো ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মহাকাশে সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তথ্য আদান-প্রদান এখনও জটিল, যা প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি কৌশলগত পরিকল্পনারও দাবি রাখে।

নভোচারীদের তোলা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চাঁদের উল্টো পিঠ থেকে ধারণ করা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য। সেখানে দেখা যায়, চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে এবং চারপাশে মৃদু আলোর আভা তৈরি হয়েছে। এই দৃশ্যের পটভূমিতে দূরের তারাগুলোর ক্ষীণ আলোও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা মহাকাশের সৌন্দর্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এছাড়া চাঁদের গর্তে ভরা দূরবর্তী অংশের সূক্ষ্ম চিত্র, এবং এমন কিছু মুহূর্তও ধরা পড়ে, যেখানে দূর থেকে পৃথিবীকে ক্ষুদ্র এক নীল বিন্দুর মতো দেখা গেছে। চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে গিয়ে নভোচারীদের কাছে পৃথিবীকে যেন চন্দ্রদিগন্তে উদয় ও অস্ত যেতে দেখা গেছে—যা এক বিরল অভিজ্ঞতা।

অ্যাপোলো যুগের তুলনায় এই অভিযানের বড় সুবিধা ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা দেখে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নভোচারীরা, যা অতীতে সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি আধুনিক ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষও মহাকাশ অভিযানের নানা দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আর্টেমিস টু মিশনের এই চিত্রধারণ কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বিজ্ঞান ও নান্দনিকতার এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম যাত্রীবাহী ড্রোন চালুর পথে শ্রীলঙ্কা
২২ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম যাত্রীবাহী ড্রোন চালুর পথে শ্রীলঙ্কা

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী ড্রোন সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। এ উদ্যোগের অংশ...

প্রযুক্তি ও ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি
২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ও ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি

ভূরাজনীতি থেকে সংস্কৃতি - বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, তথ্যপ্রবাহ ও সৃজনশীলতার ওপর প্রযুক্তি ধনক...

গুগল প্লে স্টোরে আসল-নকল অ্যাপ চেনার সহজ উপায়
১৮ অক্টোবর ২০২৬

গুগল প্লে স্টোরে আসল-নকল অ্যাপ চেনার সহজ উপায়

স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গুগল ক্রোম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে ল...

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রুপ কলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
১৭ অক্টোবর ২০২৬

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ছাড়াই গ্রুপ কলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট নেই, এমন ব্যক্তিদেরও এবার গ্রুপ কলে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন অ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে