গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০২:৩৮ এএম ২০২৬
বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ
ছবি

বিশেষ প্রশিক্ষণে চাঁদের অপূর্ব ছবি ধারণ

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানবজাতির চন্দ্রাভিযানে নতুন ইতিহাস গড়েছে আর্টেমিস টু মিশন। এই অভিযানে নভোচারীরা শুধু বৈজ্ঞানিক সাফল্যই অর্জন করেননি, বরং চাঁদ ও পৃথিবীর এমন সব বিস্ময়কর ছবি ধারণ করেছেন, যা বিশ্ববাসীকে অভিভূত করেছে। এসব ছবির পেছনে ছিল পরিকল্পিত প্রস্তুতি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষায়িত ফটোগ্রাফি প্রশিক্ষণ।

মিশন শুরুর আগে নভোচারীদের প্রায় বিশ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ দেন নাসার ফটোগ্রাফি ও ভিডিও বিশেষজ্ঞরা। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল—মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে কীভাবে নিখুঁত ও বৈজ্ঞানিক মানসম্পন্ন ছবি তোলা যায়। প্রশিক্ষকদের ভাষায়, সাধারণ মানের ছবি নয়, বরং উচ্চমানের নির্ভুল চিত্রই ছিল তাদের লক্ষ্য।

এই প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে নভোচারীরা ভূমিতে বিশেষ অনুশীলনে অংশ নেন। অন্ধকার কক্ষে ঝুলন্ত কৃত্রিম চাঁদের গ্লোব ব্যবহার করে তারা মহাকাশযানের প্রতিরূপের ভেতর থেকে ছবি তোলার চর্চা করেন। এতে মহাকাশের বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে তাদের দক্ষতা বাড়ানো হয়।

মিশনে ব্যবহৃত প্রধান ক্যামেরা ছিল ২০১৬ সালে বাজারে আসা একটি উন্নতমানের ডিজিটাল ক্যামেরা, যা বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মহাকাশের বিকিরণ ও চরম পরিবেশেও এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। বিশেষ করে অল্প আলোতেও স্পষ্ট ছবি ধারণের সক্ষমতা এটিকে এই অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

এছাড়া, সর্বাধুনিক স্মার্টফোনও এই অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। হাতে ধরে সহজে ছবি তোলার সুবিধা থাকলেও এর বড় আকারের ফাইল পৃথিবীতে পাঠানো ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মহাকাশে সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে তথ্য আদান-প্রদান এখনও জটিল, যা প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি কৌশলগত পরিকল্পনারও দাবি রাখে।

নভোচারীদের তোলা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল চাঁদের উল্টো পিঠ থেকে ধারণ করা সূর্যগ্রহণের দৃশ্য। সেখানে দেখা যায়, চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যকে ঢেকে ফেলেছে এবং চারপাশে মৃদু আলোর আভা তৈরি হয়েছে। এই দৃশ্যের পটভূমিতে দূরের তারাগুলোর ক্ষীণ আলোও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা মহাকাশের সৌন্দর্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এছাড়া চাঁদের গর্তে ভরা দূরবর্তী অংশের সূক্ষ্ম চিত্র, এবং এমন কিছু মুহূর্তও ধরা পড়ে, যেখানে দূর থেকে পৃথিবীকে ক্ষুদ্র এক নীল বিন্দুর মতো দেখা গেছে। চাঁদের কক্ষপথে ঘুরতে গিয়ে নভোচারীদের কাছে পৃথিবীকে যেন চন্দ্রদিগন্তে উদয় ও অস্ত যেতে দেখা গেছে—যা এক বিরল অভিজ্ঞতা।

অ্যাপোলো যুগের তুলনায় এই অভিযানের বড় সুবিধা ছিল ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার। ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তা দেখে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন নভোচারীরা, যা অতীতে সম্ভব ছিল না। পাশাপাশি আধুনিক ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষও মহাকাশ অভিযানের নানা দৃশ্য সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, আর্টেমিস টু মিশনের এই চিত্রধারণ কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বিজ্ঞান ও নান্দনিকতার এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

পানির নিচে ডুব দিয়ে আকাশেও উড়বে বিস্ময়কর রোবট
০৮ আগস্ট ২০২৬

পানির নিচে ডুব দিয়ে আকাশেও উড়বে বিস্ময়কর রোবট

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকেরা এমন এক নতুন রোবট তৈরি করেছেন,...

এসি-ফ্রিজ ব্যবহারের ভুলেই বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, যেভাবে সাশ্রয় করবেন
০৬ আগস্ট ২০২৬

এসি-ফ্রিজ ব্যবহারের ভুলেই বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, যেভাবে সাশ্রয় করবেন

গরমের সময়ে একটি পরিবারের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয় সাধারণত এসি ও ফ্রিজ ব্যবহারে। তবে শুধু আধুনিক বা...

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়লো ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের রকেট
০৬ আগস্ট ২০২৬

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়লো ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের রকেট

ধনকুবের ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেটের অংশ চাঁদের বুকে আছড়ে...

ভুলের দায় স্বীকার করে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইল মেটা
০৬ আগস্ট ২০২৬

ভুলের দায় স্বীকার করে ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইল মেটা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট ও বিভিন্ন পরিচালনাগত ত্রুটির ঘটনায় ভারত সরকারের ক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শেখ হাসিনার বক্তব্য সমর্থন করে না ভারত, জানালেন জয়সওয়াল

বাংলাদেশের বর্তমান বৈধ ও গঠিত সরকারের বিষয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে না নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আবারো সেটিই বলছি। এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না।” প্রিয় পাঠক. আপনি কি মনে করেন ভারত সঠিক বলেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে