কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওপেনএআই। মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে সক্ষম একটি রিচার্জযোগ্য এআই স্পিকার বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৭ সালের মধ্যেই বহুল আলোচিত এই যন্ত্র বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের নতুন এই বহনযোগ্য স্পিকার হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এক ধরনের ব্যক্তিগত সহকারী। এটি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে সহজেই নেওয়া যাবে। রান্নার সময় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, গান শোনানো কিংবা দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি এটি ব্যবহারকারীর সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথনও চালাতে পারবে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই ডিভাইসটিকে ‘মানুষের মতো এআই সঙ্গী’ হিসেবে তৈরি করতে চায়। এটি শুধু নির্দেশ পালনকারী কোনো সাধারণ যন্ত্র হবে না, বরং মানুষের কথাবার্তা, অভ্যাস ও প্রয়োজন বুঝে ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা থাকবে।
নতুন এই স্পিকারে কোনো পর্দা থাকবে না। তবে এতে এমন কিছু বিশেষ যান্ত্রিক ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে, যা নিজে থেকে নড়াচড়া করতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে ডিভাইসটিকে আরো জীবন্ত ও মানবিক মনে হবে।
ডিভাইসটিতে ওপেনএআইয়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এতে থাকবে চ্যাটজিপিটির উন্নত কণ্ঠস্বরভিত্তিক প্রযুক্তির চেয়েও আধুনিক ব্যবস্থা। ব্যবহারকারীর কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে উত্তর দিতে পারবে এটি। কথোপকথনের মাঝখানে নতুন তথ্য যোগ করলেও পরিস্থিতি বুঝে আলোচনার ধারা পরিবর্তন করার সক্ষমতা থাকবে।
ওপেনএআই স্পিকারটিতে ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সর যুক্ত করার পরিকল্পনাও করছে। এর মাধ্যমে যন্ত্রটি আশপাশের পরিবেশ বুঝতে পারবে এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী আরো ব্যক্তিগত ও কার্যকর উত্তর দিতে সক্ষম হবে।
এই এআই স্পিকার তৈরির উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার অভিযাত্রা। অ্যাপলের সাবেক নকশাবিদ জনি আইভ প্রতিষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৫ সালে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারে অধিগ্রহণ করে ওপেনএআই। ওই প্রতিষ্ঠানের নকশা ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বাজারে আসার আগেই এই প্রকল্প আইনি জটিলতায় পড়েছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তাদের সাবেক দুই কর্মী চাকরি ছাড়ার আগে অ্যাপলের হার্ডওয়্যারসংক্রান্ত গোপন নথি সংগ্রহ করেছিলেন।
অ্যাপলের অভিযোগ, এসব তথ্যের মধ্যে ভবিষ্যৎ পণ্যের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও গোপন তথ্য ছিল। এ ছাড়া ওপেনএআইয়ের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অ্যাপলের সাবেক কর্মীদের মাধ্যমে গোপন তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ে বর্তমানে তাদের চার শতাধিক সাবেক কর্মী কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সাবেক কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন পণ্য তৈরির প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ওপেনএআই ও অ্যাপলের মধ্যকার আইনি লড়াইও প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৭/৭/২০২৬