গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

মেনু

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড তৈরি

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৪ পিএম, ৩১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০৭:৫২ এএম ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড তৈরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কিউআর কোড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যার আকার মাত্র ১ দশমিক ৯৮ বর্গ মাইক্রোমিটার। ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও ক্ষুদ্র এই কোড ইতোমধ্যে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কিউআর কোড হিসেবে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির একদল গবেষক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কোডটি তৈরি করেছেন। চার্জযুক্ত কণার সূক্ষ্ম রশ্মি প্রয়োগ করে বিশেষ ধরনের সিরামিকের ওপর খোদাই করা হয়েছে এই ক্ষুদ্র নকশা, যা তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এই কিউআর কোড এতটাই ছোট যে সাধারণ আলোতে বা খালি চোখে তা দেখা সম্ভব নয়। এমনকি প্রচলিত আলোক অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও এটি পর্যবেক্ষণ করা যায় না। কোডটি দেখতে প্রয়োজন হয় ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রের।

গবেষকদের মতে, এর সূক্ষ্ম গঠন এতটাই নিখুঁত যে এটি তৈরি করাই ছিল একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-এটি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এবং বারবার পড়ার উপযোগী।

বিশেষ সিরামিকের ওপর খোদাই করা এই কোড কয়েক শতাব্দী ধরে তথ্য সংরক্ষণ করতে সক্ষম। বর্তমানে ব্যবহৃত চৌম্বকীয় ও ইলেকট্রনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার তুলনায় এটি অনেক বেশি স্থায়ী বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা।

এই সিরামিক উপাদান সাধারণত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কাটার যন্ত্রে প্রলেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা চরম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে পারে। ফলে ক্ষুদ্র হলেও এর গঠন দীর্ঘ সময় অক্ষত থাকবে।

গবেষকদের মতে, আধুনিক তথ্যসংরক্ষণ পদ্ধতিগুলো আশ্চর্যজনকভাবে ক্ষণস্থায়ী। এই প্রেক্ষাপটে সিরামিকভিত্তিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি প্রাচীন সভ্যতার শিলালিপির মতো দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প হতে পারে।

তারা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জ্ঞান সংরক্ষণে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এতে সংরক্ষিত তথ্য পড়তে কোনো বিদ্যুৎ বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না।

এই প্রযুক্তির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর ধারণক্ষমতা। গবেষকদের মতে, এর পরিধি বাড়ানো গেলে একটি সাধারণ কাগজের পাতায় দুই টেরাবাইটেরও বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে।

গবেষক দল এখন এই প্রযুক্তিকে আরো উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। তারা তথ্য লেখার গতি বাড়ানো, ভিন্ন উপাদান ব্যবহার এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের উপযোগী পদ্ধতি তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।

এছাড়া, প্রচলিত কিউআর কোডের চেয়েও জটিল তথ্য কাঠামো কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সিরামিকের পাতলা স্তরে সংরক্ষণ করা যায়, তা নিয়েও গবেষণা চলছে।

গবেষকদের প্রত্যাশা, এই প্রযুক্তি কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বিস্তৃত হবে এবং তথ্য সংরক্ষণের ধরণে মৌলিক পরিবর্তন আনবে।


সানা/ডিসি/আপ্র/৩১/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

মেসির জাদুতে গুগলেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ সার্চ রেকর্ড
১০ জুলাই ২০২৬

মেসির জাদুতে গুগলেও ইতিহাসের সর্বোচ্চ সার্চ রেকর্ড

বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়কোচিত গোল শুধু আর্জেন্টিনাকেই রোমাঞ্চকর জয় এনে দ...

হীরার প্রলেপে ইলেকট্রনিক্সের তাপ কমানোর নতুন প্রযুক্তি
০৪ জুলাই ২০২৬

হীরার প্রলেপে ইলেকট্রনিক্সের তাপ কমানোর নতুন প্রযুক্তি

স্মার্টফোন থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার পর্যন্ত আধুনিক প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো অতিরি...

এই যুগে সাইবার নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী
০১ জুলাই ২০২৬

এই যুগে সাইবার নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সাইবার নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্...

গাছের পাতায় মিললো আধুনিক শহর তৈরির গোপন নকশা
৩০ জুন ২০২৬

গাছের পাতায় মিললো আধুনিক শহর তৈরির গোপন নকশা

পড়ার ঘরের টেবিলে কিংবা বারান্দার কোণে রাখা ছোট্ট একটি গাছ। টবের ভেতর গোল গোল সবুজ পাতা নিয়ে চুপচাপ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ফ্যাসিস্টের অপরিকল্পিত উন্নয়নেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: রিজভী

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণের কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন উপদেষ্টা রিজভী সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে