গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন হামে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২০ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৫ এএম ২০২৬
শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন হামে
ছবি

মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের পঞ্চম তলায় হাম নিয়ে ভর্তি আছেন বিভিন্ন বয়সী প্রায় ১২০ জন হাম রোগী

রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের পঞ্চম তলায় হাম নিয়ে ভর্তি আছেন ৩৫ বছর বয়সী ঝর্ণা আক্তার।

রামপুরার বাসিন্দা ঝর্ণা গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ ১০৩ ডিগ্রি জ্বর, মাথাব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন। এর একদিন পরই শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়।

প্রথমে অ্যালার্জি ভেবেছিলেন, কিন্তু পুরো শরীর র‌্যাশে ভরে গেলে এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে তিনি হামে আক্রান্ত।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ঝর্ণা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম অ্যালার্জি। পরে জ্বর ও দুর্বলতা বাড়লে হাসপাতালে আনা হয়। আনার সময় আমার জ্ঞান ছিল না বলেই শুনেছি।’ 
পরিবারের বা পরিচিত কারও হাম হয়েছিল কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার এক ভাগ্নির হাম হয়েছিল। সে সুস্থ হওয়ার পর তাকে নিয়ে একদিন বক্ষব্যাধি হাসপাতালে গিয়েছিলাম।

এর পরদিনই অসুস্থ হয়ে পড়ি।’

একই ফ্লোরের ২৯ নম্বর বেডে পাঁচ দিন ধরে ভর্তি আছেন ২১ বছর বয়সী মো. সোহেল। রাজধানীর শনিরআখড়ার এই সিএনজি মিস্ত্রির পুরো শরীর র‌্যাশে ভরে গেছে। 
বড় বোন রুমি আক্তার ভাইয়ের শরীর মুছে দিচ্ছিলেন। সোহেলের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাইটা গতকাল থেকে খুব অসুস্থ। 
শরীরে র‌্যাশের কারণে ভীষণ চুলকাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, গত তিন দিন ধরে ও চোখ খুলতে পারছে না।

দুই চোখ পুরো লাল হয়ে গেছে। ডাক্তার চোখের ওষুধ দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উন্নতি হচ্ছে না।’

একটু সামনেই চিকিৎসাধীন আছেন ৩২ বছর বয়সী মানিক হোসেন এবং ২৯ বছর বয়সী আব্দুস সালাম। 
সাভার থেকে আসা মানিককে গত শুক্রবার ভর্তি করান স্ত্রী সুলতানা বেগম। তিনি বলেন, ‘গত বুধবার থেকে প্রচণ্ড জ্বর আর পাতলা পায়খানা।

এনাম মেডিকেলে নিয়ে গেলে শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়, তখন তারা এখানে পাঠিয়ে দেয়। এখনও জ্বর ও পাতলা পায়খানা আছে। শরীর এতটাই দুর্বল যে ও বসে থাকতে পারছে না।’

অন্যদিকে, আব্দুস সালামের ভাই আল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ভাইয়ের প্রচুর জ্বর। 
গাজীপুর তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলেও উন্নতি না হওয়ায় এখানে আনা হয়েছে। সালামও গত দুই দিন ধরে চোখ খুলতে পারছেন না এবং কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পঞ্চম তলায় ৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ১২০ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন।

এছাড়া, চতুর্থ তলায় ২ থেকে ৮ বছর বয়সী ১০৯ জন শিশু এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় দুই বছরের কম বয়সী ৩০৩ জন শিশু হাম নিয়ে চিকিৎসাধীন।

বয়স্ক ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, এখানে ৩০ বছরের বেশি বয়সী অনেক রোগী আছেন। বর্তমানে হামের জন্য ৯ ও ১৫ মাসে যে এমআর টিকা দেওয়া হয়, তা এই বয়সী ব্যক্তিদের পাওয়ার কথা নয়। কারণ, তখন এই টিকার প্রচলন ছিল না। 
তবে, অনেক রোগী পাওয়া যাচ্ছে যারা হামের দুই ডোজ টিকাই নিয়েছেন।

টিকা নেওয়ার পরও কেন তারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যৌথ গবেষণা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণেই এরা সহজে আক্রান্ত হচ্ছেন।

টিকা নিয়েও হামে আক্রান্ত শিশুরা

হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১৫ মাস বয়সী শিশু সাইফকে নিয়ে চার দিন ধরে ভর্তি আছেন মা আছিয়া আক্তার।

তিনি বলেন, ‘ছেলেকে সব টিকা দেওয়া হয়েছে। এই মাসেই ১৫ মাস পূর্ণ হলো, আরেকটি টিকা নেওয়ার তারিখ আছে। 
কিন্তু হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার থেকে জ্বর আর কাশি শুরু হয়। এক দিন পর শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয়। মিডফোর্ট হাসপাতালে নিলে বাচ্চার হাম হয়েছে বলে এখানে পাঠিয়ে দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডাক্তাররা বলেছেন ওর নিউমোনিয়া নেই, শুধু জ্বর-কাশি আর হাম। দুই দিন ধরে কিছু খেতে পারছে না। 
আমাদের আশেপাশে কারও হাম হওয়ার খবর শুনিনি, আর গত দুই সপ্তাহে বাচ্চাকে নিয়ে তেমন বাইরেও যাইনি। তারপরও কেন ওর হাম হলো, বুঝতে পারছি না।’

দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এমন রোগী আছে, যারা এক বা দুই ডোজ এমআর টিকা নিয়েছে। 
টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্তদের অধিকাংশেরই নিউমোনিয়া কিংবা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ইপিআই সার্ভিল্যান্সের এক সাম্প্রতিক জরিপে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

হাম-সন্দেহে দুই হাজার ৩১০ জন শিশুর ওপর চালানো জরিপ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এদের মধ্যে ৫৪.৭ শতাংশ শিশু কোনো টিকাই নেয়নি। 
২২ শতাংশ শিশু প্রথম ডোজ (এমআর-১) নেওয়ার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে। 
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ২৩.২ শতাংশ শিশুকে হামের পূর্ণ দুই ডোজ (এমআর-১ ও এমআর-২) দেওয়ার পরও তাদের শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ৭৫১ জনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৭১.৮ শতাংশ শিশু টিকা নেয়নি (এর মধ্যে ৪৯ শতাংশ শিশুর টিকা নেওয়ার বয়সই হয়নি)।

১৭ শতাংশ শিশু এক ডোজ টিকা নেওয়ার পরও আক্রান্ত হয়েছে। আর ১১.২ শতাংশ শিশু হামের পূর্ণ টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার পরও হামে আক্রান্ত হয়েছে।

 

ডিসি/আপ্র/২৩/০৪/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু
২৩ এপ্রিল ২০২৬

হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে ১ জন এবং হামে...

হাম পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
২৩ এপ্রিল ২০২৬

হাম পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাম পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখ...

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু
২১ এপ্রিল ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে...

২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ
২১ এপ্রিল ২০২৬

২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ

৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই