বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলচর প্রাণী ১৯৪ বছর বয়সী কচ্ছপ জোনাথনের মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, দক্ষিণ আটলান্টিকের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বহাল তবিয়তেই বেঁচে আছে ঐতিহাসিক এই প্রাণীটি।
ভুয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে জোনাথনের মৃত্যুর খবর ছড়ানো হয়, যেখানে তার চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘জো হলিন্স’ নামে ওই ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, কচ্ছপটি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। আবেগঘন সেই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ তা দেখেন।
বিবিসিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও ভুলবশত এ তথ্য প্রচার করে, যদিও পরে তারা তা সরিয়ে নেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাকাউন্টটি আসলে ব্রাজিল থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সির নামে অনুদান সংগ্রহ করা।
জোনাথনের প্রকৃত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন না এবং কচ্ছপটি সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নিছক রসিকতা নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা।
জোনাথন একটি বিরল প্রজাতির বিশালাকৃতির কচ্ছপ, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পরিচিত স্থলচর প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত। ১৮৮২ সাল থেকে সে সেন্ট হেলেনা দ্বীপের গভর্নরের বাসভবন প্রাঙ্গণে বসবাস করছে। তাকে সে সময় উপহার হিসেবে সেখানে আনা হয়েছিল।
ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দ্বীপের গভর্নর নাইজেল ফিলিপস নিজেই রাতে বের হয়ে কচ্ছপটির খোঁজ নেন। তিনি জানান, জোনাথন তখন চারণভূমির একটি গাছের নিচে ঘুমাচ্ছিল। পরে তিনি নিশ্চিত করেন, কচ্ছপটি জীবিত রয়েছে।
ঘটনার পরদিন সকালে প্রমাণ হিসেবে জোনাথনের ছবি তুলে প্রকাশ করা হয়, যাতে সবাই নিশ্চিত হতে পারে যে সে বেঁচে আছে। দীর্ঘ সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠা কচ্ছপটিকে স্বাভাবিক অবস্থায়ই দেখা গেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বয়সজনিত কারণে জোনাথন দৃষ্টিশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি অনেকটাই হারালেও এখনো সুস্থভাবে জীবনযাপন করছে। সে নিয়মিত ঘাস খায় এবং সপ্তাহে একদিন ফল ও সবজি দেওয়া হয়। কলা তার প্রিয় খাবারগুলোর একটি।
এই ঘটনায় ছোট্ট সেন্ট হেলেনা দ্বীপের প্রায় সাড়ে চার হাজার বাসিন্দার মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। জোনাথন সেখানে একটি পরিচিত প্রতীক, এমনকি স্থানীয় মুদ্রাতেও তার ছবি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে প্রতারণার এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।
সানা/আপ্র/৩/৪/২০২৬