গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মেনু

হাওরে ধান বিক্রিতে নতুন জুলুম ৪৫ কেজিতে মণ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০২ এএম ২০২৬
হাওরে ধান বিক্রিতে নতুন জুলুম ৪৫ কেজিতে মণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম এখন পুরোদমে চললেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির পর এবার ধান বিক্রিতে ওজনে কারচুপি ও কম দামের কারণে নতুন করে বিপাকে পড়েছেন তারা।

এবারের মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও কয়েক দফা শিলাবৃষ্টিতে কলমাকান্দার গুড়াডোবা ও মেদাবিল, মদনের গোবিন্দশ্রী ও উচিতপুর, মোহনগঞ্জের ডিঙাপোতা এবং খালিয়াজুরির কীর্তনখোলা, নন্দের পেটনা, লক্ষ্মীপুর, চুনাই, কাটকাইলেরকান্দা, বৈলং, লেপসাই ও চৈতারাসহ বিভিন্ন হাওরের নিচু জমির প্রায় দুই হাজার হেক্টর আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দেশে প্রচলিত নিয়মে এক মণ ধান ৪০ কেজি ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী ৪২ থেকে ৪৫ কেজিতে এক মণ ধরে ধান কিনছেন। এতে প্রতি মণে অতিরিক্ত কয়েক কেজি ধান দিতে হচ্ছে, যা সরাসরি কৃষকের লোকসান বাড়াচ্ছে।

কৃষকরা জানান, শ্রমিক সংকট, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং ধান কাটার খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়েছে। এর ওপর কম দাম ও ওজনে কারচুপির কারণে তারা আরো চাপে পড়েছেন। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৭৫০ থেকে ৮২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।

খালিয়াজুরির কৃষক গফুর মিয়া বলেন, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা ও সরকারি ক্রয় কার্যক্রম না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ওজনে ঠকাচ্ছে।

মদনের কৃষক জলিল মিয়া জানান, জমিতে পানি থাকায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না, শ্রমিক খরচও বেশি। সব মিলিয়ে হিসাব মিলছে না, তার ওপর ৪৩–৪৫ কেজিতে মণ ধরায় ক্ষতি আরো বাড়ছে।

অন্যদিকে ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, ভেজা ধান কেনার কারণে অতিরিক্ত ওজন ধরা হচ্ছে এবং মিল মালিকদের কাছেও একইভাবে ধান দিতে হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ১০ উপজেলায় মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ৪১ হাজার ১২০ হেক্টর জমি রয়েছে। এই অঞ্চলে উৎপাদিত বোরো ধানের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা।

কৃষকদের আশঙ্কা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা দ্রুত সরকারি ক্রয় কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি বাজারে ওজন কারচুপি বন্ধে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

জেলা খাদ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
সানা/আপ্র/২৬/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শুকিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, সংকটে কৃষি ও কৃষক
১১ জুন ২০২৬

শুকিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, সংকটে কৃষি ও কৃষক

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক...

আমের বাজারে দরপতন
০৯ জুন ২০২৬

আমের বাজারে দরপতন

রাজশাহীতে চলতি মৌসুমে রেকর্ড আম উৎপাদন হলেও ঈদের ছুটি, পরিবহন সংকট ও চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে দামের...

কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর আবাসিক হোটেল
২০ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর আবাসিক হোটেল

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুর নগরের বারো আউলিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা গরুর আবাসিক হোটেলে এখন উপচে পড়া ভিড়।...

চার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি ‘জমিদার’
১৬ মে ২০২৬

চার বছরে একদিনও গোয়ালঘর থেকে বের হয়নি ‘জমিদার’

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এক বিশাল আকৃতির গরু ‘জমিদার’ এখন স্থানীয়দের আলো...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই