নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু উচ্চশিক্ষার নয়, স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও আত্মগঠনেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর সেই যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক শিক্ষার পরিবেশ অপরিহার্য। কিন্তু জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে আরো কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল, নিরাপত্তাকর্মীর স্বল্পতা, পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারির অভাব এবং রাতের বেলায় অপর্যাপ্ত আলোর কারণে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আবাসিক হল ও মেসে চুরির ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও ইভটিজিংয়ের আশঙ্কায় আরো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দাবি করছেন।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা ইতি বলেন, প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ক্যাম্পাসের বাইরের পরিবেশ ও হলের ভেতরের পরিবেশের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। তার ভাষায়, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষের কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও ইভটিজিংয়ের ঘটনা শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে ফেলে। অন্যদিকে আবাসিক হলের পরিবেশ তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক। তবে ছুটির দিনে বহিরাগতদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল ও উচ্চ শব্দ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করে। তিনি বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ফোকলোর বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ঐশি পোদ্দার বলেন, একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক মনে করেন না। তার মতে, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ, নিরাপত্তাকর্মীর স্বল্পতা এবং পর্যাপ্ত সিসিটিভি নজরদারির অভাব শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তিনি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু এবং হয়রানির ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসের দুই প্রান্তে নির্মাণাধীন দুটি প্রবেশদ্বারের কাজ শেষ হলে বহিরাগতদের প্রবেশ আরো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তখন পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি জানান, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা বাড়ানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। পাশাপাশি ইভটিজিংসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত ঘটনা প্রতিরোধে বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর সচলতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৭/৬/২০২৬