আবু তাহের, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন উৎসব, আবেগ আর উন্মাদনার এক অনন্য পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রিয় দলের পতাকা, রঙিন জার্সি, স্লোগান আর মিছিল—সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছে এক খণ্ড বিশ্বকাপ নগরীতে।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকেই আবাসিক হল, বিভাগ ও আড্ডার জায়গাগুলোতে ফুটবলই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়। কোন দল এগিয়ে, কার সম্ভাবনা বেশি, কে কতদূর যাবে—এসব নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা ও প্রাণবন্ত বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে সমর্থনের ঢেউ। কেউ প্রিয় দলের জার্সি পরে ক্যাম্পাসে ঘুরছেন, কেউ আবার পতাকা টানিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন নিজের আবেগ ও সমর্থন।
শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে টিএসসিতে বড় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ম্যাচ চলাকালে টিএসসি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়—একদিকে উচ্ছ্বাস, অন্যদিকে উত্তেজনায় ভরা হাজারো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
এছাড়া আবাসিক হলগুলোতেও বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে রাত জেগে খেলা দেখার পরও পরদিন ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে সমানতালে। হল প্রশাসন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে উৎসবমুখরভাবে খেলা উপভোগের আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের সংগঠিত কার্যক্রমও ক্যাম্পাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফ্যান ক্লাব বিভিন্ন হল ও বিভাগভিত্তিক কমিটি গঠন করে সমর্থন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে। এতে ফুটবল কেন্দ্রিক আয়োজন এখন আর শুধু ব্যক্তিগত উচ্ছ্বাসে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সংগঠিত উৎসবে রূপ নিয়েছে।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় গেট এলাকায় ব্রাজিল সমর্থকরা নেইমারের গ্রাফিতি অঙ্কন ও আনন্দ মিছিল করেছেন। পরে প্রায় দুই শত ফুট দীর্ঘ আর্জেন্টিনার পতাকা নিয়ে পাল্টা শোডাউন করেন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। দুই পক্ষের এসব আয়োজন ঘিরে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় বর্ণিল ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্বকাপ তাদের কাছে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি মিলনমেলা, আবেগ ও বন্ধুত্বের এক বড় উপলক্ষ। একসঙ্গে খেলা দেখার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রাজিল সমর্থক ইশরাত জান্নাত বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ক্যাম্পাসে যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা সত্যিই অন্যরকম। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা দেখা, আলোচনা আর উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে এটি এক বিশেষ অভিজ্ঞতা।
আর্জেন্টিনা সমর্থক নওশাদ আল সাইম বলেন, বিশ্বকাপে প্রিয় দলের জন্য প্রত্যাশা সব সময়ই থাকে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সবাই মিলে আনন্দ করা এবং এই সময়টা সুন্দরভাবে উপভোগ করা।
স্পেন সমর্থক সাহাবির হোসেন সাব্বির বলেন, বিশ্বকাপের সময় ক্যাম্পাসের পরিবেশ একেবারেই বদলে যায়। রাত জেগে খেলা দেখা, সকালে ক্লাসে গিয়ে ম্যাচ নিয়ে আলোচনা—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষাজীবনের এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
সানা/আপ্র/২১/৬/২০২৬