গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

শিশুদের খুঁজে বের করে হামের টিকা নিশ্চিত করুন

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১৫:৩৯ পিএম, ০৮ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৫ এএম ২০২৬
শিশুদের খুঁজে বের করে হামের টিকা নিশ্চিত করুন
ছবি

সম্পাদকীয়

যখন প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ শত শত শিশুর জীবন কেড়ে নেয়, তখন সেটিই রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত ব্যর্থতার সবচেয়ে নির্মম প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। দেশে গত ৫০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে ৩১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একদিনে ১৭ শিশুর মৃত্যু নতুন এক দুঃখজনক রেকর্ড। যে রোগের বিরুদ্ধে বিশ্ব বহু আগেই লড়াই জিতে ফেলেছিল বলে মনে করা হয়েছিল, সেটিই আবার বাংলাদেশে শিশুদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এই বাস্তবতা আমাদের বাধ্য করছে আত্মসমালোচনায়। ভাইরাসের চেয়ে বড় প্রশ্ন এখন স্বাস্থ্যব্যবস্থা, প্রস্তুতি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে। সংক্রমণ বাড়ছে- এ তথ্য নতুন নয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও স্বীকার করছে, প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয়; বরং সংক্রমণ এখন বিস্তারের পর্যায়ে। অথচ হাম এমন একটি রোগ- যার বিস্তার সাধারণত ঘটে তখনই- যখন টিকাদান কাভারেজ কমে যায়, নজরদারি দুর্বল হয় এবং জনসচেতনতা ভেঙে পড়ে। অর্থাৎ এটি হঠাৎ আসা কোনো দুর্যোগ নয়; দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল।

বলা বাহুল্য, আবহাওয়ার পরিবর্তনকে সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিবছরই বদলায়, গরম-বৃষ্টি প্রতি বছরই আসে। প্রতি বছর কি শত শত শিশু মারা যায়? না। তাই আবহাওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো বাস্তব সমস্যাকে আড়াল করার মতো শোনায়। সংক্রমণের বিস্তার মূলত প্রতিরোধের দুর্বলতা থেকেই ঘটে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফিল্ড হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে দ্রুত অবকাঠামো তৈরি হওয়া প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু এই পদক্ষেপ সংকট শুরু হওয়ার পরে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রকৃত শক্তি হলো সংকটের আগেই প্রস্তুতি নেওয়া। যখন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছিল, তখন জরুরি বেড, আইসোলেশন ইউনিট এবং শিশু বিশেষায়িত চিকিৎসা নেটওয়ার্ক কেন আগেই গড়ে তোলা হলো না- এই প্রশ্ন এড়ানো যায় না। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো জন-আস্থার সংকট। যখন পরিবারগুলো মনে করে, বাস্তব মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত তথ্যের চেয়েও বেশি হতে পারে; তখন স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস কমে যায়।

বলার অপেক্ষা রাখে না, মহামারির সময় আস্থার ঘাটতি যে কোনো ভাইরাসের চেয়েও বিপজ্জনক। কারণ আস্থা হারালে মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে দেরি করে, টিকা নিতে অনীহা দেখায় এবং গুজবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই সংকট থেকে বের হতে হলে এখন প্রতিক্রিয়াশীল নয়, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ দরকার। জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে জরুরি অগ্রাধিকার দিতে হবে। মিস হওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ইউনিট গড়ে তুলতে হবে- যাতে চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে চাপ না বাড়ে। একই সঙ্গে গণসচেতনতা প্রচারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে- স্কুল, মসজিদ, মিডিয়া- সবখানে একযোগে প্রচার চালাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তথ্যের স্বচ্ছতা। বাস্তব পরিস্থিতি লুকিয়ে নয়, জানিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। সত্য প্রকাশ করলে আতঙ্ক নয়, বরং আস্থা তৈরি হয়। হাম কোনো নতুন রোগ নয়। আমরা একসময় এটিকে নিয়ন্ত্রণে এনেছিলাম। কিন্তু অবহেলা ও শৈথিল্যের কারণে সেটি আবার ফিরে এসেছে। প্রতিটি শিশুমৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে- স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা শুধু একটি খাতের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়- আমরা মৃত্যুর সংখ্যা গুনে যাব, নাকি প্রতিরোধযোগ্য এই মৃত্যুগুলো থামাতে সত্যিকারের পদক্ষেপ নেব? তাই আমাদের প্রত্যাশা, দেশে শিশুদের খুঁজে বের করে হামের টিকা দ্রুত নিশ্চিত করবেন সংশ্লিষ্টরা।

আপ্র/কেএমএএ/০৮.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

যেখানে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সেখানে সত্যও নিরাপদ নয়
২৬ জুন ২০২৬

যেখানে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সেখানে সত্যও নিরাপদ নয়

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের নল, জনসমাবেশের ভিড় কিংবা রাজনৈতিক স্লোগানে নয়; তার শক্তি নিহিত থাকে...

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের চাপ কতটা যৌক্তিক?
২৩ জুন ২০২৬

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের চাপ কতটা যৌক্তিক?

একটি রাষ্ট্রের করব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়, সাম্য ও সক্ষমতাভিত্তিক অবদান। যে নাগরিকের আয়...

ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠুক শক্তিশালী বাংলাদেশ
২২ জুন ২০২৬

ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠুক শক্তিশালী বাংলাদেশ

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে