গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

মেনু

ডিসিদের দায়বদ্ধতাই সুশাসনের ভিত্তি, প্রশাসনের মানবিক রূপই রাষ্ট্রের শক্তি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ০৫ মে ২০২৬ | আপডেট: ০০:৪৩ এএম ২০২৬
ডিসিদের দায়বদ্ধতাই সুশাসনের ভিত্তি, প্রশাসনের মানবিক রূপই রাষ্ট্রের শক্তি
ছবি

ডিসি সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি

রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের প্রথম প্রত্যক্ষ সংযোগ যেখানে ঘটে, সেটিই জেলা প্রশাসনের দপ্তর। সেই দপ্তরের আচরণই নির্ধারণ করে রাষ্ট্র নাগরিকের কাছে কতটা আপন, কতটা ন্যায়নিষ্ঠ, কতটা মানবিক। তাই জেলা প্রশাসকদের মানবিক ও আন্তরিক হওয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান নিছক প্রশাসনিক নির্দেশনা নয়; এটি একটি নৈতিক পুনর্জাগরণের ডাক। কারণ দীর্ঘদিনের বাস্তবতায় আমরা দেখেছি-ডিসি অফিস মানেই অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতি, ঘুষ-উৎকোচ, দালালচক্র ও অনাকাঙিক্ষত হয়রানির এক বিষণ্ন চিত্র; যা স্বাধীন দেশের নাগরিককে পরাধীনতার তিক্ত স্মৃতির মুখোমুখি দাঁড় করায়।

এই বাস্তবতা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক এবং বিপজ্জনক। যে রাষ্ট্রের নাগরিক নিজ দেশের প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে সম্মান পায় না, সেখানে সুশাসনের দাবি নিছক অলংকারমাত্র। 
তাই এই চিত্র জরুরিভাবে বদলানো দরকার। একটি সত্যিকার স্বাধীন, সভ্য ও সুশাসিত রাষ্ট্র গড়তে হলে মাঠ প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জেলা প্রশাসকদের হতে হবে সৎ, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক। কারণ তারাই জনগণ ও সরকারের মধ্যকার আস্থার সেতু। এই সেতু যদি দুর্বল হয়, তবে রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকের আস্থা ভেঙে পড়ে-আর আস্থাহীন রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

এদিকে ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতা-৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের ভার নিয়ে সরকারের যাত্রা। এই বিপুল দায় কেবল অর্থনীতির সংকট নয়; এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নীতিনির্ধারণের বিচ্যুতি এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। এমন প্রেক্ষাপটে কেবল উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং প্রশাসনিক শুদ্ধি ও নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই হতে পারে উত্তরণের মূল চাবিকাঠি।

সততা, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদায়নের ঘোষণা প্রশাসনের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। তবে এই নীতির প্রকৃত শক্তি নিহিত এর নিরপেক্ষ প্রয়োগে। যদি পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তবে এই ঘোষণা কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। সুতরাং প্রয়োজন একটি কঠোর ও দৃশ্যমান জবাবদিহি কাঠামো, যেখানে ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন থাকবে, তেমনি অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।

ডিসি সম্মেলনে উত্থাপিত শত শত প্রস্তাব-স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন-সবই জনজীবনের গভীর সমস্যার প্রতিফলন। কিন্তু প্রস্তাবের স্তুপ নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই এখানে মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ে তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতাই বড় বাধা। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং কঠোর তদারকি অপরিহার্য।

বাজার সিন্ডিকেট দমন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মতো নির্দেশনাগুলো বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এগুলোরও সফলতা নির্ভর করবে জেলা প্রশাসকদের সততা ও সাহসিকতার ওপর। তারা কতটা প্রভাবমুক্ত থেকে আইন প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই হবে মূল নির্ধারক।

একইভাবে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, খাদ্যে ভেজাল দমন এবং তরুণ সমাজকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করার দায়িত্বও তাদের কাঁধে ন্যস্ত। এসব দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, বরং গভীর মানবিকতা ও নৈতিক দৃঢ়তা।

‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার এখন রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। এই অঙ্গীকার পূরণে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে সততা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হলে কোনো নীতিই কার্যকর হবে না।

ঋণের ভারে ন্যুব্জ এই রাষ্ট্র আজ পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই পুনর্গঠনের সূচনা হতে হবে জেলা প্রশাসনের দ্বারেই-যেখানে নাগরিক পাবে সম্মান, ন্যায় এবং দ্রুত সেবা। কারণ প্রশাসনের মানবিক রূপই রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি; আর সেই শক্তির ভিত্তি গড়ে ওঠে দায়বদ্ধ জেলা প্রশাসনের হাত ধরেই।
সানা/আপ্র/৫/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

যেখানে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সেখানে সত্যও নিরাপদ নয়
২৬ জুন ২০২৬

যেখানে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সেখানে সত্যও নিরাপদ নয়

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি বন্দুকের নল, জনসমাবেশের ভিড় কিংবা রাজনৈতিক স্লোগানে নয়; তার শক্তি নিহিত থাকে...

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের চাপ কতটা যৌক্তিক?
২৩ জুন ২০২৬

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর করের চাপ কতটা যৌক্তিক?

একটি রাষ্ট্রের করব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়, সাম্য ও সক্ষমতাভিত্তিক অবদান। যে নাগরিকের আয়...

ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠুক শক্তিশালী বাংলাদেশ
২২ জুন ২০২৬

ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠুক শক্তিশালী বাংলাদেশ

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

২০২৫ সালে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে ২০২৫ সালে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ আনুমানিক ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আপনি কি মনে করেন এই জরিপ সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে