গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

শুল্কযুদ্ধের ছায়ায় বাংলাদেশ , চুক্তি নাকি কৌশলগত ভুল?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ০০:৫৮ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১২:৩৭ এএম ২০২৬
শুল্কযুদ্ধের ছায়ায় বাংলাদেশ , চুক্তি নাকি কৌশলগত ভুল?
ছবি

শুল্কযুদ্ধের ছায়ায় বাংলাদেশ , চুক্তি নাকি কৌশলগত ভুল?

বিশ্ব বাণিজ্যব্যবস্থা যখন ক্রমবর্ধমান শুল্ক-অস্থিরতার মুখে, তখন বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারির ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামার কথা ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে মার্কিন নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন-বিশেষত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট-এর রায়ে পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর-চুক্তিটির ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে: এটি কি দূরদর্শী কূটনৈতিক পদক্ষেপ, নাকি তাড়াহুড়ো করে নেওয়া কৌশলগত ভুল?

চুক্তির ইতিবাচক দিক অস্বীকার করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানির শর্ত পূরণ করলে শুল্কসুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এতে কাঁচামাল সরবরাহের বৈচিত্র্য বাড়তে পারত, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যসম্পর্কও সুদৃঢ় হতো। একটি বড় বাজারে শুল্কহার সামান্য কমানোও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বাস্তব চিত্র আরো জটিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের গড় বেসলাইন শুল্ক প্রায় ৮.৩ শতাংশ হলেও তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে এমএফএন শুল্কহার ১৪.৭ থেকে ১৬.৫ শতাংশ। এর সঙ্গে যদি ১৫ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত হয়, তাহলে তুলাজাত পণ্যে মোট শুল্ক প্রায় ৩১.৫ শতাংশে এবং সিনথেটিক পণ্যে ৪০ শতাংশের ওপরে পৌঁছাতে পারে। সে তুলনায় ১৯ শতাংশের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা অনিশ্চিত। উপরন্তু, যদি অন্য দেশ ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক সুবিধা পায় আর বাংলাদেশ ১৯ শতাংশে আবদ্ধ থাকে, তবে প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হবে।

আরেকটি মৌলিক প্রশ্ন হলো-একটি অন্তর্বর্তী সরকার কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিতে পারে? অস্থায়ী সরকারের প্রধান দায়িত্ব প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, বড় নীতিগত বাঁধনে আবদ্ধ হওয়া নয়। তুলা, সয়াবিন বা বোয়িং বিমান কেনার মতো শর্ত ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও সংসদীয় পর্যালোচনা ছাড়া এ ধরনের চুক্তি জনমনে প্রশ্ন তুলবেই।

নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে নীতিগত অনিশ্চয়তা, দীর্ঘমেয়াদি অর্ডার কমে যাওয়া, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং সম্ভাব্য বাণিজ্যঘাটতি বৃদ্ধি। ইতোমধ্যে ঘন ঘন শুল্ক পরিবর্তনের কারণে মার্কিন বাজারে দর নির্ধারণে ক্রেতারা দ্বিধাগ্রস্ত। রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি অশনি সংকেত।

এ অবস্থায় সরকারের করণীয় স্পষ্ট। প্রথমত, চুক্তির রেটিফিকেশন স্থগিত রেখে পূর্ণাঙ্গ ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বৈষম্যমূলক শুল্কহার প্রযোজ্য হলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে সমতার ভিত্তিতে শর্ত সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, একক বাজারনির্ভরতা কমাতে ইউরোপ ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াতে হবে। সর্বোপরি, জাতীয় স্বার্থে স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য নিশ্চিত করা জরুরি।

শুল্কযুদ্ধের এই অস্থির সময়ে কৌশলগত ধৈর্যই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তা না হলে সামান্য শুল্কছাড়ের আশায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সানা/আপ্র/২৭/২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সেতুতে বাঁশ ব্যবহারকারীকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেতুতে বাঁশ ব্যবহারকারীকে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির চিত্রটি প্রায়ই এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয়। এ...

গাজী নজরুলের এমপি পদ বহাল, জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায় কোথায়
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজী নজরুলের এমপি পদ বহাল, জনপ্রতিনিধির নৈতিক দায় কোথায়

মানুষের জীবন কোনো খেলার বস্তু নয়। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহল সেই জীবন নিয়ে যা খুশি করবেন, আর রাষ...

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়া বাড়লো, নৈরাজ্য যেন না বাড়ে
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়া বাড়লো, নৈরাজ্য যেন না বাড়ে

জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের যুক্তি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক মূ...

শিশুরা নিখোঁজ হবে, লাশ হয়ে ফিরবে, রাষ্ট্র কি শুধু সংখ্যা গুনবে?
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুরা নিখোঁজ হবে, লাশ হয়ে ফিরবে, রাষ্ট্র কি শুধু সংখ্যা গুনবে?

একটি শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবারের পৃথিবী থমকে যায়। সন্তানের ফেরার আশায় উৎকণ্ঠিত বাবা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে